বাক-প্রতিবন্ধী! হার মানেননি ‘রমাকান্ত ঘোষ’

কিন্তু বাক-প্রতিবন্ধী একজন ব্যক্তি একটু ছোয়া বা ভালবাসা অথবা তথাকথিত ডিজিটালাইজেশনের ছোয়া (সেল্ফি) পাবার জন্য অপেক্ষা করেন না। খুবই সরল ও সাধারণ স্বভাবে পরিপূর্ণ। বাক-প্রতিবন্ধী হলেও জীবনের কাছে হার মানেননি। লড়ে গেছেন এবং জয় করেছেন কোটি মানুষের মন।

এমনই একজন অসাধারণ ব্যক্তি বগুড়ার রমাকান্ত ঘোষ। বগুড়ার আকন্দ পাড়ায় বসবাসরত রমাকান্ত ঘোষ একজন বাক-প্রতিবন্ধী। গ্রামের লোকের কাছে তিনি রন দা নামেই বেশি পরিচিত। বয়স ২৮ এবং পরিবারের লোকসংখ্যা মোট আট জন। নিজে বাক-প্রতিবন্ধী হলেও পরিবার ও সারা দেশের মানুষের মুখে তৃপ্তির হাঁসি ফোটানোই তার কাজ।

আপন গতিতে ছুটে চলেন এই মানুষটি। অতিথি আপ্যায়নে রন দা অতুলনীয়। কারণ এক গ্লাস জল আর একটু মিঠাই না দিলে যে তার সংসারের অমঙ্গল হবে, এটাই তার ব্রত। বাক-প্রতিবন্ধীদের এর থেকে আর কি-ই বা দেবার আছে? এই ডিপ্লোমেটিক আর ইগোয়েস্টিক সমাজের সঙ্গে তিনি বড্ড বেমানান। তাকে গল্প শুনতে হয় ইশারায় আর আড্ডায় মশগুল থাকতে হয় তার শেষ সম্বল ওই একটুকরো হাসি দিয়ে, এই যা।

ছবি: সংগৃহীত

এত কিছু না থাকার মাঝেও রন দা আত্মনির্ভরশীল। সাধারণ মানুষ রন দা’র ভাষা বুঝতে না পারলেও, তার ভাষা বুঝতে পারে ১৬ টি বোবা গাভী। যাদের দ্বারা আজ সবার কাছে বগুড়ার ঘোষ পাড়ার সুনাম এবং পরিচিতি ছড়িয়ে গেছে। রন দা’র হাতের তৈরি দই, ছানা আর ক্ষীর সকাল হতেই অনেকের দোকানে পৌছে যায়, সেই সঙ্গে সমগ্র বাংলাদেশে।

কিন্তু কয়জন আমরা জানতে পারি একজন বাকরুদ্ধ মানুষের বুকে জমানো ব্যথা। কারণ রন দা’ও হাসতে চায়, শেয়ার করতে চায় তার জমানো সুখ এবং আনন্দ। রন দা অনেক কিছু বলতে চায়। মানুষ তা শোনেন আর না বুঝেই বোকার মতন হাসেন।

তার তৈরি প্রজেক্ট গুলো দেখেলেই বোঝা যায় কতটা বুদ্ধিমান তিনি। কথা বলতে পারলেই আন্তরিক হওয়া যায় আর সবার মন জয় করা যায় কথাটা আসলেই বড় বেমানান রন দা’র কাছে। জীবনে সফল হওয়ার জন্য কথা বলতে পারাটা মোটেও জরুরি নয়, তা আরেকবার প্রমাণ করলেন রমাকান্ত ঘোষ।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।