ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেফতারের নির্দেশ

ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (এভিপি) শাহাবুদ্দিন চৌধুরীসহ ৫ জনের দুর্নীতির মামলা বাতিলের আবেদন উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে বিচারিক আদালতে এ মামলা চলতে আর কোনো বাধা থাকলো না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

সেইসঙ্গে জাল দলিল দাখিল করে দি সিনফা নিটাস লিমিটেডের নামে ন্যাশনাল ব্যাংকের ২ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ না করে আত্মসাৎ করায় এ মামলায় চীনা নাগরিকসহ পলাতক পাঁচ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আসামিরা হলেন- ন্যাশনাল ব্যাংকের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল ওদুদ খান, কোম্পানির চেয়ারম্যান চীনা নাগরিক ইয়াং ওয়াং চুং, এমডি খসরু আল রহমান, পরিচালক মনসুরুল হক ও মো. গোলাম মোস্তফা।

একই সঙ্গে, আগামী ৬ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া এসব আসামি যেন পালিয়ে বিদেশ যেতে না পারে, সেজন্য তাদের পাসপোর্ট জব্দ করতে পুলিশের আইজিকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। বুধবার (৬ নভেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে আজ আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী আবদুল মতিন খসরু। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান ও ব্যারিস্টার মো. নওশের আলী মোল্লা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হেলেনা বেগম চায়না।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দি সিনফা নিটাস লিমিটেড কোম্পানির নামে ভুয়া এলসি খুলে প্রতারণা ও জাল দলিল তৈরি করে ন্যাশনাল ব্যাংক দিলকুশা শাখা থেকে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে টাকা আত্মসাৎ করেন্ও ই ঘটনায় দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ২০১৭ সালের ১৭ জুন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চৌধুরীসহ ৬ জনকে আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ২৪ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত -৫ এ বিচারাধীন আছে। তবে বিচারাধীন মামলাটি বাতিল চেয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট শাহাবুদ্দিন চৌধুরী হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর