ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল হওয়ার পর থেকেই উত্তাল কাশ্মীর। এরপর থেকে কাশ্মীরের রাজপথে ঝরেছে বহু মানুষের রক্ত। কাশ্মীর রক্তাক্ত হয়েছে বাংলার শ্রমিকের রক্তে। হামলায় নিহত হয়েছেন বাংলার পাঁচ শ্রমিক। কেন এই হত্যালীলা তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এবার সেই প্রশ্নচিহ্ন রেখেই কলম ধরলেন তিনি। লিখলেন, ‘কেন ঝরল এত রক্ত নিষ্পাপ শ্রমিকদের?’
মমতার প্রতিবাদ কবিতা আকারে ঝরে পড়ল খাতায়। তিনি লিখে ফেললেন কাশ্মীরের মুর্শিদাবাদের পাঁচ শ্রমিকের নৃশংস খুন হওয়া নিয়ে এক কবিতা। সেই কবিতার মাধ্যমেই তিনি প্রতিবাদ পৌঁছে দিলেন মোদি সরকারের কাছে। এর আগে যে কোনো ইস্যুতে তিনি ছত্রে ছত্রে প্রশ্ন তুলে ধরতেন। আর এবার করলেন প্রতিবাদ। তার প্রশ্ন তারা তো নিরীহ শ্রমিক। তবে কেন রক্ত দিতে হল তাদের? তারা তো কাজের জন্য, শ্রমের বিনিময়ে অর্থ উপার্জনের জন্য গিয়েছিল, তবে কেন তাদের মারা হলো।
গত সোমবার ভরেতর পশ্চিমবেঙ্গর রাজ্য প্রশাসনের উদ্যোগে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বাঙালি শ্রমিকদের। কাশ্মীরে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন তারা। সোমবার তারাই ডাউন কলকাতা-জম্মু তাওয়াই ট্রেনে করে বাড়ি ফিরেছেন। একশ ৩৮ জনের মধ্যে একশ ৩৩ জনই বংলার। তাদের দিকে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মমতা। রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন শ্রমিকদের জন্য। এককালীন ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে তাদের। এছাড়া যাদের বাসস্থান নেই, তাদের বাসস্থানও দেওয়া হবে বাড়ি প্রকল্পের আওতায়।
কাশ্মীরে বাংলার শ্রমিকদের হত্যার পর মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা। তিনি বলেছিলেন এটা পূ্র্বপরিকল্পিত খুন। কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে। তারপরও এই ধরনের ঘটনা। এই ঘটনায় তিনি স্তম্ভিত ও ব্যথিত; এমনটাই দাবি করেন মমতা।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি