আমি আইনের ছাত্র হিসেবে কাউকে অপরাধী বলতে পারি না। অপরাধী কে, তা নির্দিষ্ট করবে কোর্ট।
মঙ্গলবার রাত ১০ টার দিকে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ডিবিসির রাজকাহন শিরোনামের ‘শুদ্ধি অভিযান: ত্যাগী বনাম হাইব্রিড’ শীর্ষক রাজনৈতিক বিষয়ক টক-শো’তে উপস্থিত হয়ে এমন কথা জানালেন নারায়ণগঞ্জের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।
বর্তমানে চলমান শুদ্ধি অভিযানে নিজ দলীয় নেতারা গ্রেফতার হচ্ছে। এমন কথার নিজ প্রতিক্রিয়ায় শামীম ওসমান বলেন, যাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে তাদের নিয়ে আমি কেন বিব্রত হবো? বরং আমি গর্ববোধ করি। কারণ, আমার নেত্রী শেখ হাসিনা দেখেছেন অপরাধ হচ্ছে তাই তিনি অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে কে আত্মীয় আর কে অনাত্মীয় তা তিনি দেখছেন না।
টক-শো’তে এমপি শামীম ওসমানের পাশাপাশি আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, তৈমূর আলম খন্দকার, এবং আওয়মী লীগ নেতা আবদুল ওয়াদুদ দারা।
জয়নাল আবেদীন ফারুকের কথা সূত্র ধরে শামীম ওসমান বলেন, ক্যাসিনো দুর্নীতির মধ্যে পড়ে, তা আমি বলবো না। আমি মনে করি, এই ক্যাসিনোর যন্ত্র কীভাবে এলো? এই দেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এতিমের টাকা মেরে দেয়ার অভিযোগে জেল খাটছেন। এটা কিন্তু আদালত রায় দিয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যে অভিযান চলছে তার জন্য কি আমাদের বুদ্ধিজীবী সুশীল সমাজের উচিৎ ছিলো না আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে একটা ধন্যবাদ দেয়া? পৃথিবীর সব জায়গাতেই দুর্নীতি হয়। কোথায় হয় না? তবে, দেখার বিষয় হচ্ছে সে আইনের আওতায় আসে কিনা। আমাদের প্রধানমন্ত্রী যে অভিযান শুরু করেছেন সেটা বহাল থাকবে। তবে, কষ্ট এখানেই, তাকে কি একটা ধন্যবাদ আমরা জানাতে পারতাম না?
সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে শামীম ওসমান দাবি করেন, ভাতিজা আজমেরী ওসমানের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়নি। তিনি বলেন, এখানেই হয়েছে মিডিয়ার সমস্যা। সে বাড়িতে কোনো অভিযান চালানো হয়নি।
আর আমি ভীত নই। কে ভাতিজা আর কে ভাতিজা নয় সেটা বড় কথা নয়।
তিনি বলেন, আমার তিন পুরুষ রাজনীতি করা মানুষ। একটি ধনী পরিবারের ছেলে আমি। তারপরও আমরা এক বেলা খেয়েছি আরেক বেলা খাইনি। যখন দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম তখন কিন্তু ১৮ ঘণ্টা কাজ করেছিলাম। বলতে লজ্জা নেই যে বাথরুমও পরিস্কার করে খেয়েছি।
বার্তাবাজার/এমকে