বগুড়ার শিবগঞ্জের বেলাইল কমিউনিটি ক্লিনিকের হেল্থ প্রোভাইডার মোহাম্মদ আলী। বিধি মোতাবেক আগাগোরায় একজন স্বাস্থ কর্মী হলেও মূলত তিনি একজন সাংবাদিক। সাংবাদিকতার কারনে হয়তো তাই নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে থাকা সম্ভব হয়না তার।তাই অনেকটা নিজের খেয়াল খুশি মতো চালাচ্ছেন তৃনমূল পর্যায়ে স্বাস্থ সেবা পৌছে দিতে সরকারের স্থাপন করা বেলাইল কমিউনিটি ক্লিনিক। আর তাই তার বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগের কমতি নেই।
গত ৪ নভেম্বর দুপুরের (১.৪০ টায়) দিকে সরেজমিনে ঐ কমিউনিটি ক্লিনিকে কয়েকজন গনমাধ্যমকর্মী যাবার পথে বেলা ১২টার দিকে কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার মোহাম্মদ আলীকে মোটর সাইকেল নিয়ে বগুড়া শহরের দিকে আসতে দেখা যায়। পরে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মোহাম্মদ আলী চিকিৎসা সেবা ঠিকমতো না দিয়ে বগুড়া শহরে বিভিন্ন অফিস আদালতে পত্রিকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহে ব্যস্ত থাকেন। জানা গেছে, তিনি দৈনিক আমার সংবাদ, দৈনিক খবরপত্র ও ইংরেজি দৈনিক দ্যা এশিয়ান এইজের, ঢাকা ট্রিবিউন ,দ্যা ট্রাইব্যুনাল পত্রিকার বিজ্ঞাপন সংগ্রহকারী হিসেবে কাজ করেন, যেটা বিভিন্ন অফিসে গিয়ে তার ভিজিটিং কার্ড দেখে প্রমাণিত হয়েছে।
জানা গেছে, এই কমিউনিটি ক্লিনিকে মোহাম্মদ আলী কমিউনিটি ক্লিনিক হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার, আজহার আলী স্বাস্থ্য সহকারী ও মিম আকতার পরিবার পরিকল্পনা সহকারী হিসেবে কর্মরত আছেন। এছাড়া তাদের ব্যবস্থাপনায় একজন আয়া খ-কালীন হিসেবে ঐ কমিউনিটি ক্লিনিকে মাসিক ৩০০ টাকা বেতনে চাকরি করে।
ঐখানে ক্লিনিকের কাছে পৌঁছালে স্থানীয় ইমাম জহুরুল ইসলাম (৫০) জানান, তিনি আজকে ঔষধ আনতে গিয়েছিলেন ২টি ঔষধ (হিস্টাসিন ও ভিটামিন) পেয়েছেন, তবে স্বীকার করেন কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা দেরিতে আসেন এবং আগেই চলে যান। তিনি ঐদিন ৫০-৬০ জন রোগীকে দেখেছেন তাদের কথা শুনে ঔষধ দেওয়া সময় সাপেক্ষ। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে এই রোগীগুলোকে ঔষধপত্র দেওয়া সম্ভব নয়।
কমিউনিটি ক্লিনিক সংলগ্ন বাড়ির খায়রুল আলম (৩০) জানান, মোহাম্মদ আলী ক্লিনিকে আসলেও দেরিতে আসেন এবং আগেই চলে যান। আর আজহার আলী ও মিম আকতার সপ্তাহে ৩ দিন আসেন।
স্থানীয় ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমরা যদি স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকে না পাই তাহলে ঐ স্বাস্থ্যকর্মীর কোন প্রয়োজন নেই। তাকে অন্য কোথাও পাঠিয়ে দেওয়া হোক। তিনি রসিকতা করে বলেন, ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হোক। স্থানীয় বাদশা আলম বলেন, এখানে সব ধরনের ঔষধ পাওয়া যায় না এবং সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত থাকার কথা থাকলেও ডাক্তাররা এক-দেড় ঘণ্টা থেকে ক্লিনিক বন্ধ করে চলে যান।
ঐ ক্লিনিকের আয়া সাহেরা বেওয়া (৬০) জানান, তিনি মাসে ৩০০ টাকার ভিত্তিতে এই ক্লিনিকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করেন। ঔষধপত্র তার হেফাজতে থাকে। স্বাস্থ্যকর্মীরা আসলে তিনি ঔষধ বের করে দেন। তবে স্বাস্থ্যকর্মীরা ক্লিনিকে দেরিতে আসেন এবং আগে যান একথা স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে (০১৭১৪-৫৫০৩৯৮) নম্বরে যোগাযোগ করলে, তিনি কমিউনিটি হেল্থ কেয়ার প্রোভাইডার হিসেবে কর্মরত আছেন বলে স্বীকার করেন। সাংবাদিকতা ও চাকুরি একসাথে করা যায় কিনা এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বক্তব্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করে এবং সাক্ষাতে কথা বলতে চান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তারক নাথ কু-ু জানান, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং একজন সরকারি কর্মচারি হিসেবে সার্ভিস রুলে কোনোভাবেই সাংবাদিকতা অথবা অন্য কোনো পেশার সাথে জড়িত থাকার সুযোগ নেই।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর কবির সাংবাদিকদের জানান, আমি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। কমিউনিটি ক্লিনিক সম্পর্কিত তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছি এবং সরকারি বিধি মোতাবেক অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিভিল সার্জন (বগুড়া) ডাঃ মোঃ গওসুল আজিম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অফিসে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্নভাবে থাকতে হবে। কোন কারণে থাকতে না পারলে কাউকে দায়িত্ব দিয়ে ছুটি নিতে পারে কিন্তু কোনভাবেই বন্ধ রাখা যাবে না। সরকারি চাকুরিরত কেউ অন্য কোন পেশায় থাকতে পারবে না। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস