হালকা বাতাস দোলানো পাকা ধানে প্রশান্তি এনে দেয় কৃষকের মন। আশপাশের জমিতে ধান কাঁচা থাকলেও এরই মধ্যে ব্রি-৭৫ ধান কাটতে শুরু করেছেন কৃষকরা। মাত্র ১১০ দিন ফলনে ঘরে উঠায় হাসি ফুটেছে কৃষকদের মুখে। পাশাপাশি একই জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি, আলু ও সরিষা আবাদের সুযোগ পাচ্ছেন তারা। কম সময়ে ও কম খরচে বেশি মুনাফা। তাই, কৃষকদের মধ্যে এ ধান সাড়া ফেলেছে। রোগবালাইয়ের প্রকোপ না থাকায় ধানের উৎপাদন ব্যয়েও কম। উপ-সহকারী কৃষি
কর্মকর্তা তামান্না তাছনীম জানান, অন্যান্য ব্রি জাতের তুলনায় এই ধানের চাল অপেক্ষাকৃত চিকন ও সুগন্ধি হওয়ায় এটি লাভজনক। ব্রি-৭৫ ধান কৃষকের জন্য সুসংবাদ। মাত্র ১১০ থেকে ১১৫ দিনের মধ্যে তারা এই ধান ঘরে তুলতে পারছেন। আগাম ফলনের কারণে একই জমিতে কৃষক রবিশস্য, আলু ও শীতকালীন সবজি করতে পারছেন। ফলে বাড়তি ধান ও আগাম রবিশষ্য তারা লাভবান হবেন। চাল চিকন ও সুগন্ধি হওয়ায় কৃষক ভালো দাম পাবেন। ব্রি-৭৫ ধানের কান্ড শক্ত, তাই হলে পড়ে না ও শিষ থেকে ধানও ঝরে পড় না। সারের মাত্রা অন্যান্য উফশী জাতের চেয়ে ২০ শতাংশ কম লাগে। তিনি বলেন, ব্রি-৭৫ ধানের গড়ে ফলন হেক্টর প্রতি সাড়ে ৪.৫ টন। তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় প্রতি হেক্টর সাড়ে ৫ টন পর্যন্ত ফলন হতে পারে।
মঙ্গলবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা ঘোনা ইউনিয়নের ভাড়ূখালী ব্লক ব্রি ধান-৭৫ এর নমুনা শস্য কর্তন করা হয়েছে। সোমবার এ শস্য কর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মুতাছিন বিল্লাহ, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তামানা তাছনীম, তারেক কুমার বিশ্বাস, কৃষক মো. আকবর আলী মোড়ল, সাহেব আলী, সোহাগ, জিল্লুর রহমান, আসাদুল ইসলাম প্রমুখ।
বার্তা বাজার/এম.সি