প্রথম প্রাপ্তি পেয়ে খুশি সুখাতীর বিশেষ শিশুরা, তাদের পাশে পুলিশ সুপার

“বিশেষ শিশু,বিশেষ অধিকার” এই স্লোগানকে নিয়ে ২০১৫ সালে কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার সুখাতী গ্রামে গড়ে উঠে বিশেষ চাহিদা সমপন্ন শিশুদের নিয়ে “সুখাতী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয় । বিদ্যালয়টি শুরু থেকে নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে বর্তমান সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি । প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোন সহযোগিতা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে ।

কুড়িগ্রাম জেলার অন্যান্য সরকারি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী বিদ্যালয় গুলোর থেকে এই বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেক আধুনিক সুবিধা রয়েছে,পাশাপাশি এখানকার শিক্ষকরা নিজেরা সরাসরি শিশুদের সাথে মিশে,তাদের বন্ধু হয়ে নানা বিষয়ে পাঠদান দিচ্ছেন ।

ছবি: বার্তা বাজার

নানা সংগ্রাম পেরিয়ে বিদ্যালয়টি চলে আসছে জেনে, এবার বিশেষ এই বিদ্যালয়টির পাশে দাঁড়ালেন কুড়িগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান,বিপিএম । তিনি গত ৪ নভেম্বর সোমবার দুপুরের দিকে বিদ্যালয়টির পরিদর্শনে যান,সেখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বিশেষ শিশুদের ভালো লাগায় আবেগে আপ্লুত হোন তিনি । বিদ্যালয়টির পাশে থাকার আশ্বাস দেন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে । পরে তিনি বিদ্যালয়ের সরঞ্জাম কেনার জন্য তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থ প্রদান করেন । পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান ‘বার্তা বাজার’ অনলাইন নিউজ পোর্টলকে জানান, আমাদের সোনার বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে ব্যক্তি উদ্যোগে প্রতিটি নাগরিকের উচিৎ ,এসব শিশুদের পাশে দাঁড়ানো ,এবং তিনি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান,এসব বিশেষ চাহিদা সমপন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর”।

ছবি: বার্তা বাজার

সুখাতী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসাইন বলেন,”কথা রাখলেন আমাদের পুলিশ সুপার, তিনি নিজ কার্যালয়ে আমার প্রজাপতি খুশিকে দোয়া করেন সাথে ওর হেয়ারিং এইড কেনার জন্য নগদ দশ হাজার টাকা ব্যক্তিগতভাবে সহায়তা করেন। আমার খুশি এখন শুনতে পাবে স্পীচ এন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি দিলে সে কথাও বলবে ইনশাআল্লাহ।

জীবনের প্রথম কোন সহযোগিতা পেলাম আমার ভালবাসার প্রতিষ্ঠানের প্রজাপতিদের জন্য। সবাই মুখে বলে সহযোগিতা করবে বাস্তবে আর মনে রাখে না। আমিতো কারো কাছে নিজের জন্য কিছু চাইনি চেয়েছিলাম প্রজাপতিদের জন্য, আমার ছেলে মেয়েদের জন্য। আবারো বলছি জীবনের প্রথম প্রাপ্তি।
চির ঋণী হয়ে থাকলাম স্যারের কাছে।”

 

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর