জাবি উপাচার্যের বাসা অবরোধ: মুখোমুখি অবস্থানে ভিসিপন্থিরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামকে দুর্নীতির অভিযোগে অপসারণ দাবিতে তার নিজ বাসভবনে অবরোধ করছে আন্দোলনকারীরা। অপরদিকে উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে।

গতকাল ৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭ টায় পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবন থেকে দূর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর ব্যানার থেকে একটি মিছিল রেব হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের মুল ফটক অবরোধ করেন। এসময় সেখানে অবস্থানরত উপাচার্যপন্থিরা শিক্ষকরা বাধা দিলে আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন।

উপাচার্যের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তার বাসভবন অবরুদ্ধ রাখা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন। অন্যদিকে উপাচার্যকে বাঁচাতে এবং আন্দোলনকে অযৌক্তিক দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করবে বলে জানান উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা।

এদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপাচার্যের বাসার সামনে আশুলিয়া থানা থেকে পুুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপাচার্য অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক- শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসায় মুল ফটকের সামনে চেয়ার, টেবিল, বালিশ ,কাথা , মাইক সহ দীর্ঘদিন অবস্থানের জন্য সকল সরঞ্জাম নিয়ে অবস্থান করছে। অপরদিকে ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং উন্নয়নের পক্ষে জাহাঙ্গীরনগর” ব্যানারে আন্দোলনরত উপাচার্যপন্থি শিক্ষকরা মুল ফটকের গা ঘেঁষে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান করছে।
আন্দোলনের মুখপাত্র অধ্যাপক রায়হান রাইন বলেন, এই উপাচার্য অধিকতর উন্নয়নের ২ কোটি টাকা ইদ সেলামির নামে একটি বিশেষ ছাত্রসংগঠনের নেতাদের দিয়েছে। উপাচার্য ফারজানা ইসলামের এই দূর্নীতির আমরা বিচার হওয়া চাই। তিনি অন্যায়ভাবে দূর্বত্ত দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন চালাচ্ছে। অন্যায়ভাবে শিক্ষ্থর্াীদের নামে মামলা দিয়েছে। মামলাবাজ এই উপাচার্য অপসারণ না হওয়া পর্যুন্ত আমাদের অবরোধ চলবেই।

সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফন্টের সাধারণ সম্পাদক সুদীপ্ত দে বলেন,দৈনিক পত্রিকার মাধ্যমে আমরা জেনেছি উপাচার্য ও তার পরিবার উন্নয়নের ২ কোটি টাকা ছাত্রলীগকে দিয়েছে। আমরা ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম উপাচার্য অপসারনের জন্য কিন্তু তিনি আমাদের কথা শুনেননি। তাই দূর্নীতিবাজ এই উপাচার্যের পতন না হওয়া পর্যন্ত আমরা অবরোধ চালিয়ে যাব।

উপাচার্যপন্থি শিক্ষক ও বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ বলেন, উপাচার্যের বাসা অবরোধে আমরা শিক্ষক সমাজ উদ্বিগ্ন । গত রবিবার শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আন্দোলনকারীদের আলোচনা হয়েছে । শিক্ষামন্ত্রী লিখিত আকারে অভিযোগ চেয়েছেন। কিন্তু আন্দোলনকারীরা শিক্ষামন্ত্রীর সমাধানে না গিয়ে উপাচার্যের বাসা অবরোধ করেছে যা কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি হোক আমরা চাই না । অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে নৈতিক দায়িত্ব থেকে আমরা উপাচার্যের বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন,আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসার সামনে অবস্থান নিয়েছে । বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নিশ্চিতে এবং অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে আমরা এখানে অবস্থান নিয়েছি।

চলমান টানা ১০ দিনের অবরোধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। একাডেমিক কার্যক্রম কিছু কিছু বিভাগের সচল থাকলেও কয়েকটি বিভাগে শিক্ষার্থীরা স্বপ্রনোদিতভাবে ক্লাস পরিক্ষা বর্জন করেছে। । অন্যদিকে নতুন করে অবরোধের আওতায় এসেছে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস। এতে পরীক্ষা সংক্রান্ত কর্মকা-ে জটিলতা ও স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য রোববার রাতে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস ছাড়া উপাচার্যের অপসারণে দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি না পাওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন আন্দোলনকারীরা। শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর সোমবার দুপুরে ‘উপাচার্য অপসারণ মঞ্চে’ সংবাদ সম্মেলন করে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর