বাংলাদেশের বাজারে যে হলুদের গুঁড়ো বিক্রি হয়, তাতে অতিমাত্রায় ক্ষতিকারক সিসার উপস্থিতি পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে হলুদ রপ্তানি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিবিসি এক খবরে জানায়, স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণা সংস্থা আইসিডিডিআরবি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টাফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের করা এক গবেষণায় বাংলাদেশের বাজারে যেসব হলুদের গুঁড়া পাওয়া যায়, তাতে মাত্রাতিরিক্ত সিসা শনাক্ত হয়েছে, যা মানবদেহের ক্ষতি করে। বিশেষ করে এতে গর্ভবতী নারী ও তার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল সরকারের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দেশের মসলা উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সভা করেছে। গবেষক ও খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ছাড়াও এসিআই, স্কয়ার, প্রাণ ফুডসসহ দেশের প্যাকেটজাত গুঁড়ো মসলা উৎপাদনকারী বড় কোম্পানিগুলোর প্রায় সবার প্রতিনিধি এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। সিসার ব্যবহার ঠেকাতে কী করা যায়, সে জন্য সভায় তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করা
হয়। সবার বক্তব্য মোটামুটি একই রকম- পরীক্ষা করে সিসার নমুনা পাওয়া গেলে পুরো লট ধরে হলুদ যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
আইসিডিডিআরবি ও স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় তাদের গবেষণায় দেশের ৯ জেলার বাজার থেকে গুঁড়ো করার আগে সংগ্রহ করা হলুদের নমুনার ২০ শতাংশে সিসা বা লেড ক্রোমেট শনাক্ত করে।
বিশেষ করে সিসার উপস্থিতি প্রথম শনাক্ত করেছিলেন আইসিসিডিআরবির গবেষক ড. মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, হলুদকে আরও উজ্জ্বল করার জন্য সিসা ব্যবহৃত হচ্ছে। আড়তদার পর্যায়ে আস্ত হলুদের গায়ে সিসা ঘষা হয়। জেলা পর্যায়ে যে আড়তদার বা পাইকারি ব্যবসায়ী আছেন, তাদের কাছে এমনকি হলুদ পাঠানো হয় যে, আমাকে সিসা দিয়ে ঘষে এটি আরও উজ্জ্বল করে দাও।
একটি ভিডিওতে দেখানো হয়েছে কীভাবে বড় ঝুড়িতে এক ধরনের গুঁড়ো ছিটিয়ে পায়ে বিশেষ জুতা পরে হলুদগুলো ঘষা হচ্ছে। আর তাতে রঙ পরিবর্তন হয়ে হলুদের বাইরের দিক উজ্জ্বল হয়ে যাচ্ছে।
ড. মাহবুব আরও বলেন, আড়তদারদের চাহিদার কারণে কৃষকপর্যায়েও এটি কিছু ক্ষেত্রে মেশানো হচ্ছে। স্থানীয় ভাষায় এটি অনেক নামে পরিচিত। যেমন পিউরি, বাসন্তী রঙ, কাঁঠালি বা ফুল রঙ। এসব হলুদ উজ্জ্বল করে পাইকারি বিক্রির পরই গুঁড়ো করা হয়। যাতে রয়ে যায় মাত্রারিক্ত সিসা। হলুদ উজ্জ্বল নয়, বরং তার রঙ কিছুটা হালকা হওয়াই স্বাভাবিক।
বার্তাবাজার/কেএ