২৬ কোটি টাকা ‘নয়ছয়’ কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে

স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি বা সেন্টার মেডিকেল স্টোর ডিপো) প্রায় ২৬ কোটি টাকার ‘নয়ছয়’ করার প্রমাণ পেয়েছে সংসদীয় কমিটি। বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত লোকাল এজেন্টের সঙ্গে যোগসাজশে পণ্য আমদানির নামে জালিয়াতির মাধ্যমে এই টাকা ‘নয়ছয়’ করা হয় বলে জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে সিএমএসডি ছাড়াও ঢাকা মেডিকেল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২০১২-১৩ অর্থবছরের হিসাব সম্পর্কিত মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের বিশেষ অডিট রিপোর্ট ২০১৩-১৪ অডিট আপত্তির কয়েকটি অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, সিএমএসডি কর্তৃক বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত লোকাল এজেন্টের সঙ্গে যোগসাজশে পণ্য আমদানির নামে জালিয়াতির মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৪৭ হাজার ৩৪৫ টাকা। অভিযোগ রয়েছে- সিএমএসডির সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। বৈঠকে বলা হয়, জাতীয় ঔষুধনীতি উপেক্ষা করে বাজারমূল্য অপেক্ষা অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যে ওষুধপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জামাদি কেনার কারণে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১১ কোটি ৬৬ লাখ ৫ হাজার ৩৫ টাকা।

যদিও এ ঘটনায় জড়িত সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী (লোকাল এজেন্ট) আহসান কবীর খান আপত্তিগুলো সঠিক নয় বলে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২০৫ বিধি অনুযায়ী সংসদীয় কমিটির সভাপতি বরাবর ব্যক্তিগত শুনানির জন্য আবেদন করেন। সে অনুযায়ী সভাপতি তাদেরকে এর আগের বৈঠকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দিয়েছিলেন।

সূত্র জানায়, সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনের ছেলের অসুস্থতার জন্য বিদেশে যাওয়ায় সভাপতি বরাবর সময় চেয়ে পুনরায় আবেদন করেন। তার অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত কমিটির রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। পরে বৈঠকে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী (লোকাল এজেন্ট) আহসান কবীর খান উপস্থিত থেকে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। কমিটি সবকিছু শোনার পর আগামী এক মাসের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণসহ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে সিএজির মাধ্যমে কমিটির কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট উপস্থাপনের সুপারিশ করে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী সাংবাদিকদের বলেন, অডিট আপত্তিতে তারা কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের (সিএমএসডি) প্রায় ২৬ কোটি টাকার নয়ছয়ের প্রমাণ পেয়েছেন। বিদেশি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত লোকাল এজেন্টের সঙ্গে যোগসাজশে পণ্য আমদানির নামে জালিয়াতির মাধ্যমে এই টাকা নয়ছয় করা হয়। এ অবস্থায় সংসদীয় কমিটি আগামী এক মাসের মধ্যে জড়িত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণসহ ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে সিএজির মাধ্যমে কমিটির কাছে এ বিষয়ে রিপোর্ট উপস্থাপনের সুপারিশ করেছে।

জানা গেছে, বর্তমানে রুলস অব প্রসিডিউরের ২০৫ বিধি অনুযায়ী জড়িত ব্যক্তিবর্গের জন্য ব্যক্তিগত শুনানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে দায়ী ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ পেয়ে নিজেদের দায় থেকে মুক্ত করার সুযোগ পান। এ ছাড়াও বৈঠকে অন্য ছয়টি অডিট আপত্তি পিএ কমিটি কর্তৃক নির্দেশনার আলোকে যথাযথভাবে সম্পাদিত হওয়ায় কমিটি আপত্তিগুলো নিষ্পত্তির সুপারিশ করে।

কমিটির সভাপতি ডা. মো. রুস্তুম আলী ফরাজীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, মো. আবদুস শহীদ, মো. আফছারুল আমীন, মো. শহীদুজ্জামান সরকার, আহসানুল ইসলাম (টিটু), বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান এবং মো. জাহিদুর রহমান অংশ নেন।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর