জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবীতে আন্দোলনরত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবন অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে আন্দোলনরতরা উপাচার্যের বাসভবন এর প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, জাবি উপাচার্যের বাসভবনের প্রধান ফটক বন্ধ। ফটকের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার জন্য অবস্থান করছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা ফটকের ভিতরে এবং বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। আর প্রধান ফটকের ঠিক সামনেই রাস্তায় শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে-বসে বাসভবনকে ঘিরে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। মাইকে বিভিন্ন ঘোষণার পাশাপাশি বেজে চলেছে গান। আন্দোলনরত শিক্ষকদের অবস্থান ছাত্রদের থেকে একটু দূরে, তারা চেয়ারে বসে আছেন।
কথা হয়, আন্দোলনরত শিক্ষকদের অন্যতম মূখপাত্র রাইহানুল রাইন এর সাথে। বার্তা বাজারকে তিনি জানান, আপনারা জানেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে আন্দোলনটি শুরু হয়েছিলো, সেটা শুরু হয়েছিলো অপরিকল্পিত উন্নয়নের বিরুদ্ধে। আর এই আন্দোলন চলার এক পর্যায়ে গিয়ে আমরা জানতে পারি, এই উন্নয়নের টাকাকে কেন্দ্র করে একটা বড় দূর্ণীতি হয়েছে। এই উন্নয়নের যে বাজেট, সেখান থেকে একটা বড় অংকের টাকা ঈদ সেলামি আকারে ছাত্র সংগঠনের মধ্যে বিলি করা হয়। বিশেষ করে ছাত্রলীগের মধ্যে। আমরা এটা দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে জানতে পারি। এরপর যখন আমরা বিষয়টির তদন্ত চাইলাম, তখনই আমরা আরও জানি যে, যারা এই টাকা পেয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজন এই স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে তারা টাকা নিয়েছে। মূলত এরপরই বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা সংকটের সৃষ্টি হয় এবং কালিমা লিপ্ত হয়। উপাচার্যের পরিবারের সদস্যরা এই অবৈধ অর্থ প্রদানের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলেন বিধায় আমরা তার পদত্যাগের দাবী জানাই।
তিনি আরও জানান, তবে উপাচার্যকে সসম্মানে পদত্যাগের জন্য আমরা বলেছি, কিন্তু তিনি তা করেননি। পরে মহামান্য আচার্যকে চিঠি লিখে এখানকার পরিস্থিতি জানিয়েছি। এই পরিস্থিতিতে উপাচার্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত করে এবং তদন্তে তিনি দোষী হলে তাকে অপসারণের বিষয়েও জানিয়েছি। কিন্তু সেটা না হওয়ায় উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আজ থেকে আনরা তার বাসভবনের প্রধান ফটক অবরুদ্ধ করেছি।
আন্দোনলনরত এই শিক্ষক বলেন, উপাচার্যের প্রধান ফটক আমরা অবরুদ্ধ করলেও তার বাসভবনের পেছনের দরজাটি খোলা আছে। তিনি যদি পেছনের দরজা দিয়ে পালাতে চান, অবশ্যই তাকে স্বাগত। তিনি পালিয়ে যেতে পারেন, সে ব্যাপারে আমাদের কোনো আপত্তি নেই।
তবে উপাচার্য ড. ফারজানা ইসলাম এর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় এব্যাপারে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সাড়ে ১৪শ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ঈদ সেলামি দেয়ার অভিযোগ উঠে। এরপর থেকে গত তিন মাস যাবত উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা সংগঠন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর।’ সর্বশেষ আজ (সোমবার) সন্ধ্যা থেকে উপাচার্যের বাসভবন অবরুদ্ধ করা হলো।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস