প্রেমিকার পাওনা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত না দিয়ে তাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাবার কুপ্ররোচনা করতে গিয়ে নিজেই পুলিশের কাছে ধরা পড়লো নয়ন ভট্টাচার্য প্রকাশ মাসুদ রানা (৩০) নামে এক যুবক।
রোববার রাতে নগরীর বাকলিয়া থানার শাহ আমানত সোসাইটিতে এ ঘটনা ঘটে।সোমবার (০৪ নভেম্বর) বাকলিয়া থানার রাহাত্তারপুল শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির এমএস টাওয়ার থেকে নয়ন ভট্টাচার্য প্রকাশ মাসুদ রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন বার্তাবাজারকে বলেন, “প্রতারক নয়ন ভট্টাচার্য প্রকাশ মাসুদ রানা স্বামী পরিত্যাক্তা ৩৫ বছরের এক নারীর সাথে বিয়ে করার আশা দেখিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন এবং নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে ওই নারীকে নিয়ে শাহ আমানত সোসাইটির এমএস টাওয়ার নামে একটি ভবনে বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে থাকতেন।”
ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, নয়ন ভট্টাচার্য মূলত একজন প্রতারক। আদালতে নিজের নাম মাসুদ রানা উল্লেখ করে ওই নারীর সঙ্গে বৈবাহিক সর্ম্পক রয়েছে বলে একটি এফিডেভিট করে সাড়ে তিন বছর ধরে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করা সহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অজুহাতে ওই নারীর কাছ থেকে সর্বমোট সাড়ে নয় লাখ নগদ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেন।
বিগত কিছুদিন আগ হতে নয়নের স্বভাব, চরিত্র ও উদ্দেশ্য নিয়ে ভুক্তভোগী নারীর সন্দেহ হলে তিনি নয়নকে টাকা পয়সা দেয়া বন্ধ করে দেন। এতে তাদের সম্পর্কের অবনতি হলে ভুক্তভোগী নারী নয়নকে তাঁর টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দিতে বলেন। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে নয়ন উল্টা নারীকেই ফাঁসাবার পাঁয়তারা করে। এজন্য সে নারীটিকে রোববার ৫০ হাজার টাকা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
রোববার (৩ নভেম্বর) ওই নারীকে ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা ছিল নয়ন ভট্টাচার্যের। সকালে ওই নারীর বাসায় যান নয়ন ভট্টাচার্য। এ সময় বাসায় নাস্তাও খান তিনি। পরে চলে আসার সময় ওয়ারড্রবের ড্রয়ারে ২৯০ পিস ইয়াবা রেখে চলে আসেন।
পরে বাকলিয়া থানা পুলিশকে নয়ন ভট্টাচার্য খবর দেন শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটির এমএস টাওয়ারের একটি বাসায় ইয়াবা রয়েছে। পুলিশ নয়ন ভট্টাচার্যকে নিয়ে ওই বাসায় ইয়াবা উদ্ধারে যায়। কিন্তু অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পুলিশ ইয়াবা খুঁজে না পাওয়ায় চলে আসতে চাইলে নয়ন ভট্টাচার্য পুলিশকে দার করিয়ে নিজেই ইয়াবা রাখার স্থান দেখিয়ে দেয় ও ওয়ারড্রবের ড্রয়ার খুলে ২৯০ পিস ইয়াবা বের করে দেয়।
এতে নয়নের প্রতি পুলিশের সন্দেহ জাগে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নয়ন স্বীকার করে যে, পাওনা টাকা না দেয়ার উদ্দেশ্যে নারীটিকে ফাঁসাতে নিজেই বাসায় ইয়াবা লুকিয়ে রেখেছিল।
এ ঘটনায় নয়নের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী নারীর ধর্ষন ও প্রতারণা মামলা সহ পুলিশের পক্ষ হতে মাদক আইনে পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/কেএ