ভাগ্নির সাথে প্রেম করায় হাতুড়ি পেটা করেন মামা!

এক স্কুলছাত্রীর সাথে প্রেম করার ‘অপরাধে’ গাজীপুরের টঙ্গীতে হাতুড়ি পেটার শিকার হয়েছেন গার্মেন্ট কর্মী আবেদ আলী (২১)। ছাত্রীর মামা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আলী আজগর তাকে ধরে নিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিট করেন বলে অভিযোগ মিলেছে।

আহত আবেদ আলীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। সূত্র জানায়, কথিত প্রেমিক আবেদ আলী টঙ্গীর মরকুন পশ্চিম পাড়ার জুলহাস মিয়া লিটনের ছেলে। তিনি গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ি এলাকায় একটি গার্মেন্টে কাজ করেন।

তিনমাস আগে তার সাথে ফোনে যোগাযোগ হয় তিস্তার গেইট ইউনাইটেড স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীর। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে গত শনিবার রাতে আবেদ ছাত্রীর বাড়িতে যান। বিষয়টি টের পেয়ে পরিবারের লোকজন ছাত্রীর খাটের নিচ থেকে আটক করে আবেদকে। ছাত্রীর মামা স্থানীয় ৪৬ নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আলী আজগর। তিনি সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

ছাত্রীর বাড়ি থেকে আবেদকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় তিস্তার গেইট এলাকায়। সেখানে ছাত্রীর মামা আজগরের ফ্ল্যাটে আটকে রেখে চলে নির্মম নির্যাতন। মারপিটের সময় উচ্চশব্দে গান বাজানো হয়। যেন আশেপাশের লোকজন চিৎকার শুনতে না পারেন। রাত আনুমানিক ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত আবেদকে হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এক পর্যায়ে তার চুল কেটে দেয়া হয়।

আবেদকে নির্যাতনের সংবাদ পেয়ে বাবা জুলহাস মিয়া লিটন ও দাদা সুরুজ মিয়া ছুটে যান আজগরের বাসায়। সেখান থেকে তাকে উদ্ধারের পর ভর্তি করা হয় শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে।

দাদা মুক্তিযোদ্ধা সুরুজ মিয়া অভিযোগ করেন, ‘ আবেদকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করতে গেলে থানা থেকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। এখন বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করতে হবে।’ তবে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহিদুল ইসলাম মামলা না নেয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

এদিকে ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আলী আজগর মারধরের ঘটনা স্বীকার করে বলেন, ‘আবেদ চুরি করতে আমার ভগ্নিপতির বাসায় ঢুকেছিল। এজন্য মারধর করা হয়েছে। পরে অভিভাবকদের ডেকে তাদের হাতে তুলে দিয়েছি। তার চুল কে কেটেছে জানি না।’

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর