পেঁয়াজ বাজারে ফের কারসাজি, প্রশাসনের অভিযান

পেঁয়াজ বাজারে ফের প্রশাসনের অভিযান। অসদুপায়ে পেঁয়াজ ক্রয়কৃত মূল্যের চেয়ে অনেক গুন বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে পেঁয়াজ। পেঁয়াজের দর নিয়ে হেরফের করার দায়ে সোমবার খাতুনগঞ্জের গ্রামীণ বানিজ্যালয় নামে এক আড়তদারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভারত হতে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধের পর হতে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণ সহ একচেটিয়া কারবারিদের মজুদকরণ ও বেশি দামে পেঁয়াজ বন্ধ বেশ কিছু দিন ধরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিভিন্ন বাজার, দোকান ও আড়তে একের পর এক বাহার তাদরকি অভিযান চালানো হয়েছে এবং সতর্কীকরণ স্বরূপ আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।

অব্যাহত ধারায় অভিযানের দরুন মাঝখানে দুই তিন দিনের জন্য পেঁয়াজের দাম।কমলেও অসাধু কারবারিদের কারসাজিতে ফের পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। ৬০-৬৫ টাকার পেঁয়াজেে দাম এক লাফে ১০০-১২০ টাকায় বেড়ে যায়।

প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ক্রয়কৃত মূল্য হতে অধিক গুণ বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্দেশ্যে পেঁয়াজ কারবারিরা নতুন নতুন কৌশল ও পন্থা অবলম্বন শুরু করে। মূল্য তালিকায় পেঁয়াজ দাম একরকম লিখলে বিক্রি করে আরেক দাম। অর্থাৎ, প্রশাসনের চোখে ফাঁকি দিতে মূল্য তালিকায় পেঁয়াজের দাম দেখানো হয় ৬০-৬৫ টাকা।

কিন্তু পেঁয়াজ বিক্রি করা হয় ১১০-১২০ টাকা। গতকাল বিভিন্ন আড়তদারের হালখাতা ও সিলেটগামী পেঁয়াজ বোঝাই ট্রাকে পেঁয়াজ বিক্রির চালান চেক করলে মূল্য তালিকার এমন কারসাজি ধরা পরে। আজও একই পদ্ধতিতে কারসাজি করায় খাতুনগঞ্জের গ্রামীণ বাণিজ্যালয় নামের একটি আড়তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গতকাল (রোববার) আড়তদারদের এমন অভিনব পন্থায় পেঁয়াজ বিক্রির প্রতি সতর্কতা অবলম্বনে আজ সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে ফের বাজার তদারকি অভিযান চালানো হয়।

র‍্যাব ও পুলিশের সহযোগিতায় বানিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ সেলিম হোসেনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অন্যান্যদের মধ্যে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ পরিচালক শাহিদা সুলতানা, মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান অংশ নেন।

উপ-সচিব মোহাম্মদ সেলিম হোসেন জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। মিয়ানমার থেকে ৪২ টাকায় আমদানিকৃত পেঁয়াজ সংশ্লিষ্ট সকল খরচ বাদে লাভসহ পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য দারায় সর্বোচ্চ ৬০ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৭০ টাকা হওয়া উচিত। কিন্তু আড়তেই বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা দরে। যা নিতান্তই অমানবিক ও অযৌক্তিক।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আজ দাউদকান্দিগামী একটি ট্রাকের চালান পরীক্ষা করে দেখতে পাই ৯০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে। তাই উক্ত আড়তদারকে জরিমানা করা হয়েছে। পাইকারি দরে মিয়ানমারের পেঁয়াজ কেহ ৫৫-৬০ টাকার বেশি দামে বিক্রি করলে তাকে জেল জরিমানা করা হবে।

তিনি আরো বলেন, অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি আমরা জনগণকেও সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছি। আমদানি পর্যায় থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত কেহই পেঁয়াজের দর নিয়ে হেরফের করলে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের খবর দিবেন অফিসারকে জানানোর জন্য বলেছি। সিন্ডিকেট করে বাড়তি লোভে পেঁয়াজ কারবারিদের কোনক্রমেই সাধারণ জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলার সুযোগ দিবেননা।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর