এক মাস বয়সী শিশু মুবাশিরা খানম রাখি। জন্মের পর থেকেই তাকে থাকতে হচ্ছে কারাগারে। কারণ তার মা কামরুন নাহার মনি সোনাগাজী মাদরাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি। নুসরাত হত্যায় মনি’র সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর গ্রেফতার করে পিবিআই। গ্রেফতারের পর মনি’র আইনজীবিরা একাধিকবার জামিন আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর কারাগারে কামরুন নাহার মনি’র প্রসব বেদনা উঠলে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করে কারা কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালেই জন্ম দেন কন্যাশিশুর। জন্মের পর থেকে মায়ের সাথে কারাগারে আছে কামরুন নাহার মনির শিশু সন্তান মুবাশিরা খানম রাখি।
এদিকে কামরুননাহার মণির স্বামী রাসেদ খান রাজু অভিযোগ করেছেন, ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসায় অন্য এক মণি ছিলেন। যিনি নুসরাতের বিরুদ্ধে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলেন। পিবিআই সেই মণিকে গ্রেফতার করেও টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর ৩৪২ ধারায় আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেয়ার সময় কামরুন নাহার মণি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। পিবিআই হেফাজতে তাকে চরম নির্যাতন ও পেটে লাথি মেরে বাচ্চা নষ্ট করার হুমকি দিয়ে জবানবন্দী আদায় করে। সে জানায়, যে মণি হুজুরের মুক্তির জন্য মিছিল মিটিং মানববন্ধন করেছে তাকে গ্রেফতার করেও ছেড়ে দেয় পিবিআই।
গত ২৪ অক্টোবর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় ঘোষণার আগে সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানকে কোলে নিয়ে আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ান মা কামরুন নাহার মণি। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ সব আসামির উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন। কাঠগড়ায় মায়ের কোলে তখন কান্না করছিল নবজাতক কন্যাশিশুটি আর মা তাকে আঁকড়ে ধরে কান্না থামানোর চেষ্টা করছিলেন। রায়ের পর মায়ের মৃত্যুদণ্ড হওয়ায় মায়ের সাথে কারাগারে অবস্থানরত সদ্যোজাত সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২০ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে রাত সাড়ে ১২টায় কারাবন্দী মণি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়। সাধারণ শিশুর মতো জন্ম হলেও রাখি পায়নি বাবা, দাদা-দাদী, নানা-নানীর আদর। পাননি পৃথিবীর মুক্ত আলো বাতাস। জেলেই মায়ের সাথে দিনাতিপাত করছেন শিশুকন্যা রাখি।
ফেনী জেলা কারাগারের জেলার দিদারুল আলম জানান, সাধারণ কয়েদির সাথে থাকলেও প্রয়োজনে জেল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে চিকিৎসাসেবাসহ সার্বিক সহযোগিতা করেন।
তবে এ মামলার আসামি পক্ষের আইনজীবী গিয়াস উদ্দিন নান্নু বলেন, যত দিন পর্যন্ত শিশুটি নিজ হাতে খেতে না পারবে তত দিন মণির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না। আমরা অতি দ্রুত হাইকোর্টে আপিল করবো।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস