মুহাম্মাদ হুমায়ুন চৌধুরী, ব্যুরো চীফ চট্টগ্রাম: পাঁচ মাস আগে চুরি হওয়া শিশুকে উদ্ধার সহ শিশু চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, চলতি বছর মে মাসের ২৮ তারিখ নগরীর রেয়াজউদ্দিন বাজারের আমতলা এলাকা থেকে শেফালী বেগম নামক এক নারী ভিক্ষুকের দুই মাস বয়সী বাচ্চা চুরি হলে শেফালী বেগম কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরিপ্রেক্ষিতে রোববার ভোরে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি নগরীর দামপাড়া পল্টন রোডের এক দম্পতির কাছ থেকে উক্ত শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন মোহাম্মদ আফসার ওরফে জাফর সাদেক (৩৮), পারভীন আক্তার (৩০) ও সুজিত কুমার নাথ (৪৫)। পুলিশের দাবি গ্রেফতারকৃত তিনজনের মধ্যে শিশু চুরির মূল হোতা হলো আফসার।
শেফালী বেগমের করা মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ মে নগরীর কাজীর দেউড়ি এলাকায় শিশু সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষা করার সময় এক যুবক শেফালীকে তার বাচ্চার জন্য কাপড় কিনে দেওয়ার কথা বলে চলে যায়। পরদিন বিকালে ওই যুবক আবার এসে নাস্তা করাবার কথা বলে রেয়াজউদ্দিন বাজারে নিয়ে যান ও এক হোটেলে দু’জনে নাস্তা করেন। নাস্তা করার পর রাস্তায় শেফালী বমি করতে থাকেন। বমি করার পর উক্ত যুবক শেফালীর শিশুকে তার কাছে রেখে সফিনা মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় গিয়ে শেফালীকে হাতমুখ ধুয়ে আসার পরামর্শ দেন। যুবকের কথা মত শেফালী মুখ ধুতে মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় যান। মুখ ধুয়ে মার্কেট থেকে নেমে শেফালী দেখে তার শিশু ও উক্ত যুবক কেহই নেই। তাদের না দেখে বিভিন্ন দিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং পরে না পেয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন।
কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, শেফালীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমরা মার্কেটের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শেফালীর বাচ্চা চুরি করা যুবককে শনাক্ত করি এবং গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইপিজেড থানা পুলিশ ইকবাল নামক এক ব্যক্তিকে শিশু চুরির ঘটনায় গ্রেফতার করলে এলাকায় শিশু চুরির অভিযোগে ইকবাল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে শেফালীর করা কোতোয়ালী থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শেফালীর বাচ্চা চুরির সত্যতা প্রকাশ পায় ও ইকবাল শেফালীর বাচ্চা চুরির বিষয়টি স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।”
ওসি মহসিন আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ইকবাল হতে শিশু চোর চক্রের মূল হোতা হিসেবে পরিচিত আফসার সহ আরো অনেকের নাম পরিচয় ও তথ্য বেরিয়ে আসে। ইকবালের তথ্য অনুযায়ী শনিবার বিকালে কক্সবাজারের কলাতলী থেকে আফসারকে গ্রেফতার করা হয়। আফসারের তথ্য মতে রাতে অক্সিজেন এলাকা থেকে পারভীন আক্তার ও মেহেদী বাগের ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে থেকে সুজিত নাথকে গ্রেফতার করা হয়।
আটক ইকবাল, আফসার, পারভীন আক্তার ও সুজিত নাথ পুলিশের নিকট শেফালীর বাচ্চা চুরি সহ অন্য শিশুদের চুরির নানান চাঞ্চল্যকর তথ্য, কারণ, ঘটনা স্বীকার করে। তারা স্বীকার করে প্রতিটি শিশু দশ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয় এবং এ কাজে বিভিন্ন হাসপাতালের গাইনি ডিপার্টমেন্টের নার্স, পিয়ন ও আয়ারা তাদের সহযোগিতা করে।
শিশু চোর চক্রের ব্যাপারে এমন সব জটিল ও মারাত্মক তথ্য জানতে পেরে জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে সিএমপির উপ কমিশনার এসএম মেহেদী জরুরি ভিত্তিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে এসএম মেহেদী হাসান বলেন, “নগরীতে শিশু চোরের বিশেষ একটি চক্র রয়েছে। যারা গরীব, অভাবী মানুষের সন্তানদের চুরি করে এবং বিভিন্ন হাসপাতাল, মেডিকেল ও ক্লিনিকের কিছু অসৎ কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নিঃসন্তান দম্পতিদের নিকট এতিম/স্বজনহারা বলে চুরি করা শিশু মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে। শিশু চোর চক্রের বিরুদ্ধে পুলিশ সদা শক্ত অবস্থান পালন করবে এবং এ কাজে জড়িত প্রত্যেককে ধরার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে পুলিশের সাথে সাথে জনসাধারণকেও সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা গরীব পথচারী তারা অপরিচিতদের সাথে মেলামেশা করবেননা এবং যারা নিঃসন্তান তারা পুলিশকে না জানিয়ে কারো কাছ হতে কোন শিশু নিবেননা।”
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস