টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকার মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম খসরু প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত। তার অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ছোট ভাই নবাব আলী তার নামে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করছেন নিয়মিত। এমন অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা ও তার পরিবার।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রতারণা করে বড় ভাইয়ের নাম নিজের বলে চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধার ভাতা উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে নবাব আলী নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম খসরু প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত থাকার সুযোগে ছোট ভাই নবাব আলী তার নাম খোরশেদ আলম দাবি করে নিজের ছবি মুক্তিযোদ্ধা কার্ডে লাগিয়ে ভাতা উত্তোলন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা খোরশেদ আলম প্রায় ২৫ বছর আগে প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হন। বর্তমানে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। খোরশেদ আলম বিছানা থেকে উঠতে না পেরে ওই সময় থেকে তার আপন ছোট ভাই নবাব আলীকে দিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধার ভাতাকার্ড পাবেন কিনা এ সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিতেন। এ সময় নবাব আলীর কাছে খোরশেদ আলমের মুক্তিযোদ্ধাসংক্রান্ত কাগজপত্র দেন। পরে খোরশেদ আলম ভাতা সম্পর্কে নবাব আলীর কাছে জানতে চাইলেও তিনি ভাতা সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য দিতেন না।
এদিকে ২০০০ সাল থেকে খোরশেদ আলমের নামে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাকার্ড চালু হলেও নবাব আলী বিষয়টি গোপন রেখে কার্ডে নিজের ছবি লাগিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করা শুরু করেন।
৩ বছর আগে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বয়স্ক ভাতাকার্ড করতে গিয়ে খোরশেদ আলম তার নামে মুক্তিযোদ্ধা ভাতাকার্ড রয়েছে এমন তথ্য জানতে পারেন। পরে বিষয়টি সম্পর্কে সমাজসেবা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার (খোরশেদ আলম) মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা স্থগিত করেন। এরপর প্রায় এক বছর ভাতা উত্তোলন স্থগিত থাকলেও রহস্যজনক কারণে আবার ভাতা চালু হয়। পরে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে খোরশেদ আলম বাদি হয়ে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বাসাইলের আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
খোরশেদ আলমের স্ত্রী মরিয়ম বেগম বলেন, “খোঁজ নিয়ে দেখা যায় নবাব আলী প্রতারণা করে আমার স্বামী খোরশেদ আলমের ছবি পরিবর্তন করে নিজের ছবি লাগিয়ে ভাতা উত্তোলন করছে। পরে বিষয়টি সমাজসেবা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কিন্তু এতেও কোনও কাজ হচ্ছে না। নবাব আলী এখনো আমার স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা উত্তোলন করছে।”
এদিকে অভিযুক্ত নবাব আলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাগজপত্র আমার মেয়ের জামাইয়ের কাছে রয়েছে। আপনারা কিছু জানতে চাইলে ইউএনও’র সাথে যোগাযোগ করেন।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, “খোরশেদ আলম অভিযোগ করেন যে তার ছোট ভাই নবাব আলী প্রতারণা করে ভাতা উত্তোলন করছেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সমাজসেবা অধিদপ্তরের তদন্তে উঠে আসে খোরশেদ আলম ও নবাব আলী একই ব্যক্তি।”
এর মধ্যে, আদালতের নির্দেশে পিবিআই খোরশেদ আলমের দায়েরকৃত মামলাটি তদন্ত করে। ইউএনও শামছুন নাহার খোরশেদ আলম ও নবাব আলীকে একই ব্যক্তি বললেও পিবিআই বলছে তারা দু’জন ভিন্ন ব্যক্তি।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস