খালিদ হাসান, বগুড়া প্রতিনিধি: ফুলকপির ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগে বগুড়ার শিবগঞ্জে শিল্পী বেগম নামে এক মহিলাকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার মহিলা জানান, স্ত্রীর দাবি আদায়ে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার কারণেই তাকে এই নির্যাতন করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার সকালে উপজেলার রায়নগর ইউপির অনন্তবালা গ্রামে।
ওই দিনই মারপিট করে নির্যাতনের সাথে জড়িতরা ওই নারীকে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর পুলিশ তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারের জন্য নেয়। কিন্তু ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই নারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পেয়ে উল্টো তাকে মারপিট করার অভিযোগে মামলা নেয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা দেয়। পরে রবিবার দুপুরে মামলা নেয়া হয়।
জানা গেছে, সদরের পলাশবাড়ি গ্রামের শিল্পী বেগম নামে ওই নারী গৃহনির্মাণ শ্রমিকের কাজ করেন। অনন্তবালা গ্রামের রাফি তাকে ৮/৯ মাস আগে বিয়ে করেন। বগুড়া সদরের বাঘোপাড়ায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিল তারা। কিন্তু এক মাস ধরে রাফি তার খোঁজ-খবর না নেয়ায় তিনি শুক্রবার সকালে অনন্তবালা গ্রামে রাফির বাড়িতে যান। রাফির পরিবারের লোকজন তখন তাকে ভর্ৎসনা করেন। এরপর শিল্পী জানতে পারেন রাফি পাশের ফুলকপির ক্ষেতে কাজ করছেন। তখন শিল্পী ক্ষেতে গিয়ে রাফির সাথে কথা বলার চেষ্টা করে। এ সময় রাফি তাকে মারধর করে। এরপর স্থানীয় লোকজন আসতে থাকলে তাকে খুঁটিতে বেঁধে কপির ক্ষেত নষ্ট করেছে বলে চালিয়ে দেয়া হয়। রাফির পরিবারের লোকজন এসে তাকে মারধর করে। পরে গ্রাম পুলিশ দিয়ে তাকে থানায় পাঠানো হয়।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ওই নারী তাকে নির্যাতনের কথা জানাননি। যে কারণে মামলা প্রথমে নেয়া হয়নি। রবিবার ওই নারী তার পরিবারের অন্য সদস্যসহ থানায় এলে মামলা নেয়া হয়।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলমগীর হোসেন জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেয়ার মত কোন অভিযোগ ছিল না ওই নারীর বিরুদ্ধে। তাকে বাদী করে নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা নেয়ার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশনা দেয়া হয়।
বার্তা বাজার/এম.সি