ডেস্ক রিপোর্ট: নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চলতি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষায় একটি বিদ্যালয় থেকে চার পরীক্ষার্থীর কেউ পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিতি স্বাক্ষরতা দেখার সময় বিষয়টি প্রকাশ পায়। ওই প্রতিষ্ঠানটি হচ্ছে- শ্যামপুর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
জানা গেছে, উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম শ্যামপুর। উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে অবিস্থত। প্রত্যান্ত-অবহেলিত গ্রামের নিম্নবৃত্ত পরিবারগুলোতে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ২০ বছর আগে শ্যামপুর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। বছরের পর বছর স্থানীয়দের অনুদান ও সহযোগীতায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছিল। শিক্ষকরাও প্রতিষ্ঠানের জন্য শ্রম ও নিজেদের পকেট থেকে টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-এলাকাবাসীরা হতাশ হয়ে পড়েন। চলতি বছরে বিদ্যালয়টি থেকে জেএসসিতে চারজন (দুই জন মেয়ে ও দুই জন ছেলে) পরীক্ষার্থী অংশ নেয়ার কথা থাকলেও কেউ অংশ নেয়নি। বিদ্যালয় থেকে কেন্দ্রের দুরুত্ব প্রায় ১৮ কিলোমিটার। যেখানে আসা-যাওয়ার ভাড়া প্রায় ৭০ থেকে ৮০ টাকা। প্রত্যন্ত গ্রামের নিম্নবৃত্ত পরিবারগুলো যাতায়াত ভাড়ার টাকা না থাকায় সন্তানদের পরীক্ষা কেন্দ্রে যেতে দেয়নি।
শ্যামপুর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিজে থেকে চাঁদা দিয়ে দীর্ঘসময় ধরে বিদ্যালয়টি চালু রেখেছি। ২০১৮ সালে ৭ জন এবং ২০১৭ সালে ১২ জন জেএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাশ করে। এবছর চারজন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়নি। আমি শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তারা জানায়- ‘ভাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের আমাদেরকেই পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যেতে।’ যেখানে আমরা চলতে পারি না, সেখানে টাকা খরচ করে কিভাবে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যাব!!
কয়াপাড়া কামার কুড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব আজাহারুল ইসলাম বলেন, প্রথম দিন বাংলা পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শুরুর কিছু পর পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতি কার্যক্রম শুরু হয়। কেন্দ্রের ৯ নম্বর কক্ষে দেখা যায় চারজন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল শ্যামপুর নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।
মান্দা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, আমার যেটা মনে হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। শিক্ষার্থী আছে কিনা সন্দেহ। আরেকটি বিষয় হচ্ছে- প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন থেকে এমপিও না হওয়ায় সঠিক ভাবে চলছিল না।
বার্তা বাজার/এম.সি