শেষ সময়ে চুয়াডাঙ্গায় আমনের ক্ষেতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ

সাইদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: আমনের শেষ সময়ে এসে চুয়াডাঙ্গার আমন চাষীরা ব্যাপক ঝামেলা পোহাচ্ছে। হঠাৎ জেলার আমনের ধানক্ষেত গুলোতে কারেন্ট পোকার আক্রমণ বেড়ে গেছে। গত কয়েকদিনের মধ্যে জেলার সব উপজেলার মাঠের পর মাঠ ধানক্ষেতে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকের জমিতে পোকার আক্রমণে ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেকের আক্রমন শুরু করেছে। এ পোকার আক্রমণে চলতি আমন মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জেলার দামুড়হুদা উপজেলার হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামের আরাফাত আলী ২৫ কাঠা জমি বছরে ১০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়ে আমন ধানের চাষ করেছিলেন। ঠিকমত পরিচর্যার মাধ্যমে ক্ষেতের ধানও হয়েছিল ভালো। তার আশা ছিল ক্ষেতের ধান ঘরে তুলে সব দায়দেনা পরিশোধ করবেন। কিন্ত ভরা মৌসুমের শেষের দিকে এসে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। কেননা হঠাৎ কারেন্ট পোকার আক্রমনে ক্ষেতের ধান গাছ শুকিয়ে বাইলের সবধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করেও পাচ্ছেন না কোন সুফল।

কৃষিকর্মকর্তারা বলছেন আবহাওয়াজনিত কারনে (বি,পি,এইচ) বা কারেন্ট পোকার আক্রমন দেখা দিয়েছে। কিন্ত কৃষকদেরকে পরামর্শ দেওয়ার কারনে এখনও ব্যাপকতা লাভ করতে পারেনি।

জেলা কৃষি অফিসসূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গা জেলায় আমন ধান রোপনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭ হাজার ৩৯৫ হেক্টোর। কিন্ত চাষ হয়েছে ৪০ হাজার ৫’শত ৫০ হেক্টোর জমিতে।

সরেজমিনে উপজেলার দর্শনা, শ্যামপুর,ঈশ্বরচন্দ্রপুর, কুতুবপুর-মুন্সিপুর, কানাইডাঙ্গা, জুড়ানপুর, হেমায়েতপুর, কুড়ুলগাছি, চন্ডিপুর, সাড়াবাড়িয়া, বড়বলদিয়া, বুইচিতলা, হরিশ্চন্দ্রপুর, ফুলবাড়ি, প্রতাপপুর, ঠাকুরপুর, মদনাসহ বিভিন্ন গ্রামের মাঠে ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ মাঠের আমন ক্ষেতে বিক্ষিপ্তভাবে কারেন্ট পোকা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষেত বাঁচাতে কৃষকেরা কীটনাশক স্প্রে করছেন। কীটনাশক কোম্পানীর প্রতিনিধিরাও দিচ্ছেন নানান পরামর্শ।

ক্ষতিগ্রস্থ উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের কৃষক আক্তারুল জানান, আগের দিন বিকালে ভালো ক্ষেত দেখে পরের দিন বিকালে গিয়ে দেখি ক্ষেতের মাঝে মাঝে বেশ খানিক স্থান জুড়ে পাকা ধানের মত রঙ ধারণ করে ধানগাছ শুকিয়ে গেছে। আক্রান্ত ধানগাছগুলোর বাইলের সব ধান চিটা পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, আমি একজন বর্গাচাষী। অনেক কষ্টে টাকা জোগাড় করে ধানচাষ করেছিলাম। এখন ক্ষেতের এমন অবস্থা। কিভাবে সারা বছর সংসার চালাবো সেই চিন্তায় পড়েছি।

এব্যপারে দামুড়হুদা উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, বিভিন্ন কৃষকের ক্ষেতের বিপিএইচ রোগের কথা শুনেছেন। দিনের বেলায় গরম আর রাতে ঠান্ডা এমন আবহাওয়ায় এ রোগ দেখা দিয়েছিল। কিন্ত কৃষকদেরকে সচেতন করার কারনে ব্যাপক আকার ধারণ করতে পারেনি। তিনি বলেন, আক্রান্ত ক্ষেতে প্লেনাম, হুপারসট, সপসিন , নিপসিন ক্ষেতে স্প্রে করতে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ঠান্ডা পড়া শুরু হলে বিক্ষিপ্ত এ আক্রমন থাকবে না।

বার্তা বাজার/এম.সি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর