মোঃ আল মামুন খান, সাব-ব্যুরো প্রধান (সাভার/ধামরাই): জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদত্যাগের দাবীতে চলমান সর্বাত্মক ধর্মঘটের আজ অষ্টম দিন। রবিবার (৩ নভেম্বর) সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে চলমান অবরোধ ও অনির্দিষ্ট কালের সর্বাত্মক ধর্মঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা বিরাজ করছে।
এদিকে, এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এব্যাপারে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর আন্দোলন’ এর অন্যতম সংগঠক জামাল উদ্দিন রুনু বলেন, ‘আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি ন্যায়সঙ্গত দাবি নিয়ে আমাদের এ অবরোধ-ধর্মঘটের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি।
এতে শিক্ষার্থীদের সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদী মঙ্গলের জন্য সবাইকে এ আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানাব। ভয়ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না।’
আজ (রবিবার) জাবি ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যানারে অষ্টম দিনের মত উপাচার্যের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। অবরোধের কারনে অফিস কক্ষে প্রবেশ করতে পারেনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস পরীক্ষা।
অন্যদিকে আন্দোলনের মুখে গত ২৪ অক্টোবর থেকে কার্যালয়ে আসেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার। ফলে অচলাবস্থা বিরাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে।
প্রসঙ্গত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সাড়ে ১৪শ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে দুই কোটি টাকা ঈদ সেলামি দেয়ার অভিযোগ উঠে।
এরপর থেকে গত তিন মাস যাবত উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গড়ে উঠা সংগঠন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর।
বার্তাবাজার/এমকে