ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুর জবরদখলে ছিল টিকাটুলির স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রমের সম্পত্তি। বৃহস্পতিবার মঞ্জুকে গ্রেফতারের পর ভোলানন্দগিরি আশ্রমের সম্পত্তি অবশেষে গতকাল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আশ্রমের জায়াগা উদ্ধারের সময় দুর্বৃত্তরা বাধা দিলেও আশ্রমের ভক্ত ও স্থানীয় এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যায়।
আশ্রম কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, সম্প্রতি র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার মঞ্জুর সন্ত্রাসী বাহিনীই এ হামলা চালিয়েছে। স্থানীয়রাও তা-ই মনে করেন।
ওয়ারি থানার ওসি আজিজুর রহমান গতকাল জানান, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে। থানার পক্ষ থেকে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রমটি প্রায় সাড়ে সাত বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। অভিযোগ রয়েছে, কাউন্সিলর মনজু অবৈধভাবে এ আশ্রমের সাড়ে তিন বিঘা জমি ও পুকুর দখল করে নেন। ভক্তদের প্রার্থনাকর্ম সম্পাদনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে মঞ্জুর বিরুদ্ধে।
আশ্রম কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনগণ গতকাল সকালে বেদখল হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধার করে। উদ্ধারকালে হিন্দু ও মুসলিম সংগঠনের নেতা এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে আশ্রমের ভক্তরা কাউন্সিলর মঞ্জুর নির্মাণ করা একটি দেয়াল ভেঙে ফেলেন। আশ্রমের পুকুরের দিকের গেটে অনেকদিন আগে এ দেয়ালটি তুলে দিয়েছিলেন মঞ্জু। এতে করে প্রতিমা বিসর্জনসহ পূজা অর্চনায় পুকুরটি ব্যবহার করতে পারতেন না ভক্তরা।
দেয়ালটি ভেঙে ফেলার পর মঞ্জুর অবৈধ দখলে থাকা জমির প্রবেশপথে ইট গেঁথে দেয়াল তুলে দেওয়া হয়। পুকুরসংলগ্ন এ গেটটিতে দেয়াল করার সময় কিছু লোক বাধা দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এর পর আশ্রমের ভক্ত ও স্থানীয় এলাকাবাসী বাধা প্রদানকারীদের প্রতিরোধ করতে শুরু করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে একপর্যায়ে বাধা প্রদানকারী দুর্বৃত্তরা সেখান থেকে সরে যায়।
সরেজমিনে গতকাল স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রম ঘুরে দেখা যায়, মঞ্জুর দখল করা আশ্রমের জমিতে অন্তত ৪টি ছাপাখানা রয়েছে; রয়েছে এনজিওসহ বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অফিস। এগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কয়েকটি কক্ষ মঞ্জুর অনুসারীদের বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখানে কাউন্সিলর মঞ্জুরও একটি অফিস রয়েছে।
ছাপাখানার কর্মচারীরা জানান, আয়তনভেদে এক একটি কারখানা থেকে মাসে এক থেকে দেড় লাখ টাকা ভাড়া আদায় করতেন মঞ্জু। অন্যান্য কারখানা থেকেও সমপরিমাণ ভাড়া আদায় করা হতো। সব মিলিয়ে আশ্রমের দখলকৃত জায়গা ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা কামাতেন এ কাউন্সিলর।
স্বামী ভোলানন্দগিরি আশ্রমের ট্রাস্টি ড. জেকে পাল বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতাসীনরা এ আশ্রমের জায়গা দখল করে রেখেছে। যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে, তখন সে দলের নেতাকর্মীরা আশ্রমের জায়গা দখল করে রেখেছে। কাউন্সিলর মঞ্জু দীর্ঘদিন এ জায়গা দখল করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দিচ্ছিল। তার অনুসারীরা এখানে নানা কুকর্ম করলেও আমরা প্রতিবাদ করতে পারিনি।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস