ন্যায্য ভাড়া না দিয়ে চলে যান যাত্রী, হাউমাউ কাঁদতে থাকেন রিকশাচালক

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটের সামনে আজ বিকেল ৩টার দিকে বাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল, রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অসংখ্য যানবাহন থমকে আছে। কেউ একজন জোরে হাঁক ছেড়ে বললেন, কীরে ভাই, যানবাহন নড়ছে না কেন? সামনে কি যানজট বেশি নাকি?

উত্তরে একজন বলেন, নারে ভাই, সামনে রাস্তা ফকফকা। ব্যারিকেড পড়ছে, রেলগাড়ি আসছে। এ কথা শুনে থেমে যায় হৈচৈ। হঠাৎ করে পেছন থেকে হাউমাউ করে এক মধ্যবয়সী রিকশাচালককে কাঁদতে দেখা গেল। যানজটে আটকা পড়া সবাই প্রথমে ভেবেছিল রিকশার যাত্রী হয়তো চালককে মারধর করেছে। কিন্তু রিকশায় বা আশেপাশে কোনো যাত্রী দেখা গেল না।

অনেকেই রিকশাচালকের কাছে কান্নার কারণ জানতে চাইলে কান্নার গতি আরও বেড়ে যায়। এক মোটরসাইকেলচালক রিকশাচালককে রাস্তার পাশে ডেকে নিয়ে শান্ত করে এমন করে কান্নার কারণ জানতে চান।

আবদুর রশীদ নামের ওই রিকশাচালক জানান, আজ সকালে তিনি তেজগাঁওয়ের গ্যারেজ থেকে রিকশা ভাড়া নিয়ে মহাখালীতে যান। সেখানে এক যুবক তাকে প্রথমে কমলাপুর নিয়ে যান। সেখানে ঘণ্টাখানেক বসিয়ে রেখে মতিঝিল ও পরে পল্টনে যান।

মোট ভাড়া ২৫০ টাকা হলেও তার হাতে ১০০ টাকার একটি নোট দিয়ে তাকে সেখানে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলে মহাখালী ফিরে আসবে বলে চলে যান।

সরল বিশ্বাসে তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করলেও সেই যুবক আর ফিরে আসেননি। সারাদিন কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে ন্যায্য পাওনা না পাওয়ার কষ্টে রিকশায় আর কোনো যাত্রী না তুলেই গ্যারেজে ফিরে যাচ্ছিলেন।

হঠাৎ তার মনে পড়ে যায়- রিকশা জমা দিতে গেলেই মালিককে যে ভাড়া দিতে হবে ন্যূনতম সে টাকাও তার কাছে নেই। এ কারণেই হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।

আবদুর রশীদ জানান, সংসারে স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে তার। তিনিই একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর