ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান চৌধুরী হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে ক্যাসিনোকান্ডে গ্রেপ্তার ঠিকাদার জিকে শামীমকে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় দিয়াজের পরিবার। এ জন্য আদালতে আবেদন করেছেন মামলার বাদী দিয়াজের মা জাহেদা আমিন চৌধুরী। আদালত মামলার তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার দিয়াজ ইরফান চৌধুরীর মা চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম মো. রবিউল আলমের আদালতে আবেদন করেন। সিআইডি মামলাটি তদন্ত করছে।
দিয়াজের বড় বোন আইনজীবী জুবাইদা সরওয়ার চৌধুরী নীপা বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে দিয়াজকে হত্যার পেছনে কলাভবন নির্মাণের ঠিকাদারির বিষয়টি এসেছে। কাজটি জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান পেয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এই হত্যাকা-ে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এ জন্য তাকেও আসামি করে তদন্তের আওতায় আনতে আমরা আদালতে আবেদন করেছি। আদালত আবেদন গ্রহণ করে সিআইডিকে এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এসএম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জিকে শামীমকে চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আওতায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবন নির্মাণের ৭৫ কোটি টাকার কাজ জিকে শামীমের প্রতিষ্ঠান সার্স দ্য বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স জিকে বিল্ডার্স লিমিটেডকে (জেভি) পাইয়ে দিতে ‘বাধা অপসারণের অংশ হিসেবে’ দিয়াজকে খুন করা হয়েছে।
দিয়াজ ইরফান চৌধুরী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক
এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। ২০১৬ সালের ২০ নভেম্বর রাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেট এলাকায় ভাড়া বাসায় নিজ কক্ষ থেকে দিয়াজের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। দিয়াজের মরদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলা হয়। কিন্তু তার পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে, আত্মহত্যা নয় দিয়াজকে খুন করা হয়েছে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস