ডিশ, ইন্টারনেটের ঝুলন্ত তার অপসারণের নির্দেশ

দেশে ডিশ, ইন্টারনেট এবং টেলিফোনের ঝুলন্ত তারের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বিদ্যুত্ বিভাগ। তারা একদিকে বিদ্যুতের খুঁটি অবৈধভাবে ব্যবহার করছে, অন্যদিকে নিজেদের লাইন টানতে গিয়ে বিদ্যুতেরই তার কেটে দিচ্ছে।

অনেক সময় ট্রান্সফরমারে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহের পথে এটিও বড়ো বাধা তৈরি করছে। নভেম্বরের শেষ নাগাদ ঢাকার বিদ্যুত্ খুঁটিগুলোতে থাকা এসব ঝুলন্ত তার কাটতে শুরু করবে বিতরণ কোম্পানিগুলো।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিদ্যুত্ ভবনে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ কথা বলেন। ‘ঢাকা মহানগরীর রাস্তার পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঝুলন্ত তার ও বিতরণ লাইনকে ভূগর্ভস্থ বিতরণ লাইন ব্যবস্থার আওতায় স্থাপনের’ বিষয়ে এ সভা আয়োজন করা হয়।

সভায় বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের একটি অংশের বিদ্যুত্ লাইন ১ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মাণ শুরু করছে ডিপিডিসি। আগামী ৫ বছরের মধ্যে রাজধানী ও এর আশপাশের জেলাগুলোর লাইনও ভূগর্ভে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

পানি, গ্যাস, টেলিফোন, ইন্টারনেট, টেলিভিশন ক্যাবল নেটওয়ার্কসহ সরকারি-বেসরকারি সব ইউটিলিটির তার-সংযোগগুলোও একই সঙ্গে ভূগর্ভে কীভাবে স্থাপন করা যায় তা নিয়ে পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এতে খরচ ও বিশৃঙ্খলা কমবে এবং খোঁড়াখুঁড়িজনিত জনদুর্ভোগও অনেকখানি এড়িয়ে যাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, বিদ্যুতের খুঁটিতে অবৈধ ঝুলন্ত তারের কারণে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত্ বিতরণ করা যাচ্ছে না। বিদ্যুতের তার কাটা যাচ্ছে। ট্রান্সফরমারগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা যাচ্ছে না। এতে বছরে ১৬ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়।

এখন ঢাকার যেসব স্থানে আন্ডারগ্রাউন্ডে লাইন নেওয়া সম্ভব তাদেরকে এ মাসের মধ্যে নিয়ে যেতে হবে। এরপর না নিলে খুঁটিতে থাকা অন্য সব লাইন কেটে দেওয়া হবে।

বৈঠক সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরীর যেসব এলাকায় লোকাল ডিস্ট্রিবিউশন পয়েন্ট (এলডিপি) ব্যবস্থা রয়েছে সেসব এলাকায় জিপিএস ম্যাপসহ তালিকা প্রস্তুত, যেসব এলাকায় এখনো আন্ডারগ্রাউন্ড ফাইবার অপটিক ক্যাবল সুবিধা তৈরি হয়নি সেসব এলাকায় কর্মপরিকল্পনাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুত্ বিভাগের যুগ্ম সচিবকে (সুশাসন ও কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা) পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এস এম জিয়াউল আলম ও পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন। বিদ্যুত্ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বিটিআরসি, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি, ঢাকা উত্তর/দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, জননিরাপত্তা বিভাগ ও পেট্রোবাংলার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর