পাকিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত বেড়ে ৭৪

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে যাত্রীবাহী চলন্ত ট্রেনে দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধ-শতাধিক। ট্রেনে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের পর আগুন লেগে হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।

এ ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দেশটির প্রধামন্ত্রী ইমরান খান একটি টুইট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আহতদের সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি।’ এই ঘটনার দ্রুত তদন্তেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে টুইটারে জানান পাক প্রধান।

দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি পাঞ্জাবের পূর্বাঞ্চলের দিকে যাচ্ছিল বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির এক সরকারি কর্মকর্তা। রহিম ইয়ান খান শহরের উপকমিশনার জামিল আহমেদ জানান, পাঞ্জাব রাজ্যের লিয়াকতপুরের কাছাকাছি এলাকায় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ট্রেনের ভেতর গ্যাস স্টোভে রান্না করার সময় হঠাৎ সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এ সময় আগুন ধরে গেলে দ্রুত তা আশপাশে ছড়িয়ে পড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ‘তেজগাম’ ট্রেনটিকে থামাতেই ২০ মিনিটের মতো সময় লাগে। এতে হতাহতের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। ট্রেন থাকে লাফিয়ে পড়তে গিয়েই বেশিরভাগ যাত্রী মারা যায়।

ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের পর কয়েক হাজার যাত্রী আতঙ্কিত হয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যাদের মধ্যে বেশিরভাগের মৃত্যু হয়েছে এবং বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে এক পর্যায়ে ট্রেনটি থেমে যায়।

এদিকে ট্রেনটির চালক সাদি আহমেদ খান জানান, ট্রেনটির ইমার্জেন্সি ব্রেকিং সিস্টেমটি সঠিক কার্যক্ষমতায় ছিল এবং আগুন লাগার তিন মিনিটের মধ্যেই ট্রেনটি থামে। চালক হিসেবে এই দুর্ঘটনা নিজের জীবনে সবচেয়ে খারাপ ট্র্যাজেডি বলে মন্তব্যও করেন তিনি।

পাঞ্জাবের প্রাদেশিক মন্ত্রী ইয়াসমিন রশিদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, লিয়াকতপুরের একটি হাসপাতালে আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে দুর্ঘটনাস্থলের নিকটতম বৃহত্তম শহর মুলতান শহরে নিয়ে যাওয়া হয়।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সেনা সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভী ও প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশটির ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার জন্য শোক প্রকাশ করে বিবৃতি জারি করেছেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, পাকিস্তানের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ও পাকিস্তান সরকারের প্রতি ‘গভীর সমবেদনা’ প্রকাশ করেছেন মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। তিনি আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ও সার্বিক সুস্থতা কামনা করেছেন।

রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বল অবকাঠামো এবং সরকারের অবহেলার কারণে পাকিস্তানে প্রায়ই ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। পাকিস্তানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, যাত্রীরা যে ব্যক্তিগতভাবে ট্রেনের ভেতর গ্যাসের চুলা নিয়ে এসেছিল সেদিকে খেয়াল করেননি রেলওয়ের কর্মকর্তারা, যার ফলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

বার্তাবাজার/কেএ

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর