যৌতুকের জন্য প্রাণ দিতে হলো নববধূ আয়েশা সিদ্দিকা’র

ডেস্ক রিপোর্টঃ বিয়ের ১ মাসের মাথায় যৌতুকের জন্য জীবন দিতে হলো নববধূ আয়শা ছিদ্দিকার (১৯)।
প্রায়ই স্বামী শ্বশুর-শাশুড়ী মিলে চালায় নির্যাতন। আর সেই নির্যাতন মোবাইলে কল দিয়ে পরিবারের সদস্যদের শুনাতেন তিনি। দাবি মতো টাকা দিতে না পাড়ায় সর্বশেষ গত ১৭ অক্টোবর নির্যাতন চালিয়ে মুখে কীটনাশক ঢেলে দেয়ার পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আয়শা ছিদ্দিকা। তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বুধবার রাতে না ফেরার দেশে চলে যান আয়েশা।

এদিকে নির্যাতনের বিষয় জানিয়ে গত ২২ অক্টোবর মেয়ের বাবা আবুদল আলীম বাদি হয়ে চন্দনাইশ থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ নিহত আয়শার স্বামী আরিফকে (২৫) গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেন।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত শঙ্খ নদীর ওই পাড়ে সাতকানিয়ার পুরানগর ইউনিয়নের শিলঘাটা গ্রামের কৃষক আবদুল আলিমের মেয়ে আয়শা ছিদ্দিকা ভালবেসে নদীর অপর পাড়ে চন্দনাইশ ধোপাছড়ির রেগঘাটার বাচা মিয়ার ছেলে আরিফের সাথে প্রেম করে গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন। শ্বশুর বাড়ি যাওয়ার পর থেকে শুরু হয় তার উপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন। নিহত আয়শার বাবা আবদুল আলিম বৃহস্পতিবার রাতে হাসপাতাল থেকে মেয়ের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসার সময় এই প্রতিবেদককে মোবাইল ফোনে জানায়. বিয়ের পর থেকে চার লাখ টাকা যৌতুকের জন্য মেয়েকে নির্যাতন করতো। গত ১৭ অক্টোবর নির্যান করে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়ার পরে মেয়ের অবস্থার অবনতি হলে তার মেয়েকে বাড়ি পাশে ফেলে যায়। পরে তাকে চমেক হাসপাতারে ভর্তি করার পরে বুধবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে আয়েশা মারা যায়।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে চন্দনাইশ থানার পুলিশ পরিদর্শক কেশব চক্রবর্তী স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগে আরিফকে ২৩ অক্টোবর গ্রেফতার করে আদালতে চালান দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

বার্তা বাজার/ এস.আর

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর