নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে পাঁচ বছর পর মাঠে ফিরে এসেছিলেন। এখন জাতীয় লীগে সেঞ্চুরিও করছেন মোহাম্মদ আশরাফুল; কিন্তু কেমন ছিল সে সময়টা তার? মানসিক এ অশান্তির মধ্যে কীভাবেই বা নিজেকে ধরে রেখেছিলেন? সাকিবের এক বছরের নিষেধাজ্ঞার পর এসব বিষয় নিয়েই ইএসপিএন ক্রিকইনফোর মুখোমুখি হয়েছিলেন আশরাফুল। শুরুতেই তিনি বলে দেন, সাকিব আল হাসান আর তার ব্যাপারটি একরকম নয়। ‘তার আর আমার ব্যাপারটা এক নয়।
আশরাফুল বলেন, সাকিব জুয়াড়ির কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানায়নি, আর আমি পুরোপুরি ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়েছিলাম। তবে এটা আমাদের সিস্টেমের জন্যই বড় ধাক্কা। আমরা সবাই ক্রিকেট ভালোবাসি। এ মুহূর্তে সাকিবের ওপর দিয়ে যা যাচ্ছে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার মনে হয় তাকে নিয়ে এখন বেশি বেশি খবর না হওয়াই ভালো। এসব নিয়ে বেশি বেশি খবর প্রকাশ হলে তা খুব কষ্টকর হয়, যেটা আমার বেলায় হয়েছিল।’
আশরাফুল জানান নিষেধাজ্ঞার প্রথম ছয়টি মাস যে নিদারুণ কষ্টে গিয়েছিল তার, সেটা যেন সাকিবের সঙ্গে না হয়। ‘প্রথম ছয় মাস আমি নির্ঘুম কাটিয়েছি। সারারাত টেলিভিশন দেখতাম। ঘুম থেকে উঠতাম দুপুর ২টায়, কখনও কখনও বিকেলে। তার পরই আমি হজে যাই এবং সেখানে থেকে নিজেকে নতুনভাবে তৈরি করার প্রেরণা খুঁজে পাই। আমি তখন শুধু ভাবতাম আর কখনও কি মাঠে ফিরতে পারব? খেলতে পারব কি ক্রিকেট? কেননা, আমার বয়স তখন ছিল ত্রিশ (২০১৩ সাল)। সাকিবকে ক্রিকেট বোর্ড সাহায্য করছে। আমিও পেয়েছিলাম, কিন্তু সেটা সাকিবের মতো ছিল না।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, সাকিব অনুশীলনের জন্য বিসিবির সব সুযোগ- সুবিধায় পাবে, যেটা আমি পাইনি। প্রথম তিন বছর আমি কোথাও খেলার সুযোগ পাইনি। তখন আমি এমনসব টুর্নামেন্ট খেলেছি যা আইসিসির অন্তর্ভুক্ত ছিল না। আমেরিকায় স্থানীয় কোনো টুর্নামেন্টে খেলেছি। বাচ্চাদের সঙ্গে বাড়ির সামনে খেলেছি। সাকিবের হয়তো আমার মতো এটা করতে হবে না। ‘ আশরাফুল মনে করেন, ওই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সে বরং মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছিল বেশি। ‘যখন আমি বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলেতাম, তখন হয়তো ৫০ শতাংশ আমার খেলা পছন্দ করত, ৫০ শতাংশ করত না।
কিন্তু ওই ঘটনার পর আমার মনে হয়েছে, দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষই আমাকে সমর্থন করে। তাদের কেউ বিশ্বাস করেনি যে, ওই ঘটনা আমি একা ঘটিয়েছি।’ সাকিবের জন্য কষ্টের জায়গাটা বোঝেন আশরাফুল। ‘হয়তো আমাদের ব্যাপারটি ভিন্ন, কিন্তু শাস্তিটা একই। আমরা দু’জনই ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হয়েছি।’ আশরাফুলের বিশ্বাস, আর হয়তো কোনো ক্রিকেটারের ভাগ্যে তাদের মতো এমনটা হবে না।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস