মুহাম্মাদ হুমায়ুন চৌধুরী, ব্যুরো চীফ চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম সিআরবি এলাকা ও পাহাড়তলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই শতের অধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১৬ অক্টোবর সন্ত্রাস, চুরি ও মাদকের আখড়া হিসেবে খ্যাত বিারটিসি চৌদ্দ জাম তলা বস্তিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলে শত শত কাঁচা-পাকা ঝুপড়ি সহ ব্রয়লার এভিনিউ সহ ভেঙে গুড়িয়ে দেয়া হয়।

এছাড়া গত ২৮ অক্টোবর(সোমবার) ও গতকাল বুধবার যথাক্রমে হালিশহর ও সিআরবি এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। হালিশহরে রেলওয়ের সাড়ে তিন একর জায়গা জুড়ে থাকা অবৈধ দখলদার সহ ৪৮ টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয় এবং সিআরবি হতে ২৩০টি ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করা হয়।
চলতি মাসে বস্তি উচ্ছেদে কর্তৃপক্ষের একাধিক অভিযানের পরও বস্তিবাসীর টনক নড়েনি। বস্তিতে বসবাস সহ মাদক বেচাকেনা সহ সকল অপকর্ম বহাল তবিয়তে অব্যাহত ছিল। যার দরুন রেল কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবার আবারো উচ্ছেদ অভিযানে মাঠে নামে।
আজকের অভিযানে সিআরবি এলাকা থেকে প্রায় ১২০টি ঝুপড়ি ও পাহাড়তলীর জামে মসজিদের আশপাশ থেকে প্রায় ৮০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। উদ্ধার করা জমির পরিমাণ প্রায় ২ একর।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর করিম বলেন , হালিশহরের বিশাল ওই রেলের জায়গা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রভাবশালী এক নেতার দখলে ছিল। যার দরুন এতদিন কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখলি জায়গা উদ্ধার করতে পারেনি।
কিন্তু সরকার যখন হতে রেলওয়েকে দলীয় নেতা কর্মী বা যে কোন প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহনের কঠোর নির্দেশনা দেন। তখন হতে এ যাবত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় রেলওয়ের জায়গা হতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরো বলেন, সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক চলমান অভিযান অব্যাহত রাখতে পর্যায়ক্রমে ৪ নভেম্বর সেগুন বাগান, ১০ ও ১১ নভেম্বর ওয়ারলেস মোড় এলাকা সহ আরো যত চিহ্নিত জায়গা রয়েছে। সে সমস্ত জায়গায় রেলের জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
বার্তাবাজার/এমকে