এই বাড়িটির নাম “ভূতের বাড়ি”

সুজন মোহন্ত, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রাম জেলা সদর থেকে চর কুড়িগ্রাম এলাকার পশ্চিমে ৩ কিলো গেলেই চোখে পড়বে কুড়িগ্রাম জেলার সেই কথিত”ভূতের বাড়ি”টির।

প্রায় ২০ শতক জায়গা জুড়ে চর আরাজি পলাশবাড়ি এলাকায় এই জমির উপর পরিত্যক্ত বাড়িটি ২০০৪ সালে নির্মিত হয়। বাড়িটি তৈরী করতে সময় লেগেছিলো ১ বছর ৫ মাস। এর পর, ২০০৫ সালে বাড়িটির পাশে এখানে নির্মিত হয় ১টি মসজিদ। পাশাপাশি বাড়িটির চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির ফলের গাছ।

ছবি- বার্তা বাজার

দিনের আলোয় বাড়িটিকে দেখে ভূতের বাড়ি মনে না হলেও,স্থানীয়রা বলেন,রাতে হয়ে উঠে ভূতের বাড়ি। স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,১৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ২০০৪ সালে,বাড়িটি ৫টাকার কয়েনের আকৃতি করে,দামি পাথর বসিয়ে খুব সৌন্দর্য মন্ডিত করে বাড়িটির নির্মান করেন লন্ডন প্রবাসী মুরাদ রুমি খালেদ।

এরপর শুরু হয় বিপত্তি। বাড়ির মালিক শখ করে বাড়িটি নির্মান করলেও,শখ করে থাকা হয়নি বাড়িটিতে। বাড়ির তৎকালীন মালিকের শ্যালক মোঃ রুবেল বার্তা বাজার কে জানান,”আমার দুলাভাই শখ করো বাড়িটি বানান,এরপর বাড়িটিতে নানান অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটতে থাকে,বিভিন্ন কান্নার আওয়াজ,হাসির শব্দ,নুপুরের শব্দ শোনা যায়,এবং রাতে বাড়িটিতে ঢিল পড়তো।” স্থানীয় কয়েকজন মুরুব্বীদের সাথে কথা বলে জানা যায়,একবার কিছু শিক্ষার্থী এখানে শিক্ষা সফরের এসেছিলো,পরে তাদের ১জনকে সকালে দেখা যায়,১টি গাছে সে ঘুমাচ্ছে।

বাড়ির মালিক পরবর্তীতে ১জন কবিরাজ. এর মাধ্যমে জানতে পারেন ,বাড়িটি নাকি কবরস্থানের উপর নির্মিত। এরপর তিনি বাড়ির পাশে ১টি মসজিদ ও মাদ্রাসা নির্মান করেন,তারপরও নাকি কমেনি ভূতের উৎপাত! এরপর তিনি বাড়িটি বিক্রি করেন সেকেন্ডার কোল্ড স্টোরেজ এর মালিক মোঃ সেকেন্ডার আলীর কাছে। বর্তমানে আইনগত তিনি বাড়ির মালিক।

প্রথম দিকে বাড়িটিতে তিনি স্টোরেজ এর মালামাল রাখলেও এখন মালামাল রাখা হয় না। ফলে বাড়িটি বর্তমানে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে,ইতিমধ্যে বাড়িটির অনেক মূল্যবান জিনিস চুরি হয়ে গেছে,বাড়িটিতে বসানো পাথর গুলো এখন আর চোখে পড়ে না।

স্থানীয়রা আরো জানান,দিনের বেলায় বাড়ির আশ-পাশে লোকজন যাওয়া আসা করলেও,সন্ধার পর ঐদিকে কেউ যায় না। স্থানীয়রা এখন এটির নাম দিয়েছেন জ্বীন-পরির মোড়। কলেজ ছাত্র দূর্জয় সরকার জানান,”একবার আমরা কোচিং থেকে পিকনিকে গিয়েছিলাম বাড়িটি দেখতে,এরপর সবাই বাড়িটি নিয়ে আমরা হাসাহাসি করেছিলাম,হঠাৎ আমাদের সামনে কাঁঠাল গাছ থেকে আস্ত ১টি কাঁচা কাঠাল ছিঁড়ে পড়ে,সে সময় কোন ধরনের বাতাস ছিলো না।” বাড়িটিকে নিয়ে অনেকে অনেকসময় নানান গল্প কথা বলেছেন,তবে এর আরজ বিজ্ঞান সম্মত কোন ব্যাখ্যা আছে কি না,তা জানাতে পারেন নি কেউ।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর