চুয়াডাঙ্গায় ভেজাল শিশু খাদ্যে বাজার সয়লাব, হুমকির মুখে শিশু স্বাস্থ্য

সাইদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভেজাল, রং মিশ্রিত, মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি হচ্ছে। এসব ভেজাল শিশু খাদ্যে ফরমালিন, ট্যালকম পাউডার, পঁচা তেঁতুল, পঁচা আম, আমড়া ও ঘন চিনি দিয়ে তৈরি করা বিভিন্ন প্রকারের জুস,পাইপ চুইংগাম, আচার, রকমারি চিপস, বিস্কুট, শনপাপড়ি, কেক, লোভনীয় চকলেট, আইসক্রিমে বাজার এখন সয়লাব।

রকমারী নামিদামী কোম্পানির নাম ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে তৈরি ভেজাল এসব শিশু খাদ্য খেয়ে পেটের পীড়াসহ নানা রকম জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। দ্রুত এসব ভেজাল শিশু খাদ্যের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান সহ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে সচেতন মহল।

বাজারে লিচু ড্রিংক, ফুট ড্রিংক, স্ট্রবেরি, জাম, আম স্বাদের রকমারী চকোলেট, ফুলক্রিম দুধ, বাহারী জুস, চিপস, আইসক্রীম সহ অনন্ত ৫০ ধরনের ভেজাল, শরীরের জন্য ক্ষতিকর রং মিশ্রিত শিশু খাদ্য বিক্রি হচ্ছে।

১ থেকে ১২০০ টাকা মুল্যের শিশুদের মন কাড়ানো এসব শিশু খাদ্য সহজলভ্য হওয়ায় এর চাহিদাও অনেক বেশি, কিন্তু ভেজাল এসব শিশু খাদ্য খেয়ে পেটের পীড়া, অপুষ্টি, কৃমিসহ জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কম বয়সী শিশুরা। এর মধ্যে আবার গ্রামা লের শিশুদের সংখ্যা বেশি। আবার এসব ভেজাল পণ্য বিক্রেতাদেরও বেশি টার্গেট থাকে গ্রামা লের স্কুল গুলোর দিকে।

জানা যায়, জেলার সদর উপজেলার মধ্যে এর প্রভাব কম থাকলেও জেলার দামুড়হুদা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছেয়ে গেছে এসব ভেজাল ও নকল শিশু খাদ্র। উপজেলার জয়রামপুর, দর্শনা, কুড়–লগাছি, কার্পাসডাঙ্গাসহ বিভিন্ন হাটে বাজারের খোলা জায়গায় এসব অপুষ্টিকর ভেজাল শিশু খাদ্য দেদারছে বিক্রি হচ্ছে। যা দেখে হতবাক সচেতন মহল।

সচেতন ব্যবসায়ীরা বলেন, কম দামের জিনিসের ৯০ ভাগ গ্রাহক হচ্ছে শিশুরা। তাই তাদের আকর্ষণ করতে রং মিশ্রিত করে সামান্য সেকেরান দিয়ে মিষ্টি করে অনেক ধরনের জিনিস বাজারজাত করা হচ্ছে। তারা নিজেরাও স্বীকার করে এর মধ্যে ৯৫ ভাগ জিনিসই দুই নাম্বার বা ভেজাল, লিচিতে সামান্য ফ্লেভার দিয়ে বাকি সব পানি।

পাউডার দুধ বলে সব পাউডার, জেলীতে সব কৃত্রিম জিনিস, চকোলেটের অবস্থা আরো খারাপ। জুস ও চিপসতো ডাক্তাররা প্রতিনিয়ত বারণ করেন। এদিকে গ্রামা লে এসব পণ্য বেশি বিক্রি হয় বলেও জানান তারা।

শিশু খাদ্যের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে চিকিৎসকরা বলেন, বাজারে যেসব শিশু খাদ্য রয়েছে তাতে এমন কিছু উপাদান রয়েছে তা কিডনি ও ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব খাবারের কারণে রুচি না থাকা, ক্ষুধামন্দা সৃষ্টি হয় যা শিশুদের জন্য সত্যিকার অর্থে ক্ষতিকর।

এছাড়াও শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্থা করে। তাই শিশুদের ঘরে তৈরি খাবার খাওয়ানো উচিত।

বার্তাবাজার/এমকে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর