সাইদুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার ধান্যঘরায় ঘটেছে এক হৃদয় বিতারক ঘটনা। যৌতুক না দেওয়ায় গর্ভাবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে ধান্যঘরা গ্রামের আলিকিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম। প্রথম স্ত্রী সন্তান প্রসব করে ১ দিনের মাথায় সন্তানকে রেখে গেছে তার কাছে। এমতাবস্থায় ১ দিনের নবজাতক কন্যা সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েছে জাহিদুল।
জানা যায়, দামুড়হুদা উপজেলার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের ধান্যঘরা গ্রামের আলিকিনের ছেলে জাহিদুলের সাথে ইসলামি শরীয়ত মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয় একই উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের রবিউল ইসলামের মেয়ে সুখী খাতুনের সাথে। বিয়ের কিছুদিন পরেই সুখীর উপর নির্যাতন শুরু করে জাহিদুল ও তার পরিবার। প্রথমত যৌতুকের কিছু টাকা এনে দিলেও সন্তুষ্ট হয়নি জাহিদুল ও তার পরিবারে। কথামত দ্বিতীয় বারের মত যৌতুক এনে দিতে না পারায় সুখীর জীবনে কাল হয়ে দাড়ায় জাহিদুল ও তার পরিবারের লোকজন। গর্ভাবস্থায় জাহিদুল সুখীকে তালাক দিয়ে উপজেলার চন্দ্রবাস গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করে।
এদিকে গত মঙ্গলবার সুখীর কোল জুড়ে আসে ফুটফুটে এক কন্যা সন্তান। সুখীর বাবা-মা মেয়ের ভবিষ্যৎ-এর কথা ভেবে ১ দিনের নবজাত কন্যা সন্তানকে নিয়ে রেখে যায় জাহিদুলের বাড়িতে। সুখীর বাবা-মায়ের এহন কর্মকান্ড দেখে প্রতিবেশীরা অনেক বোঝালেও কোন ভাল ফল আসেনি।
বাচ্চা রেখে যাওয়ার বিষয়ে সুখীর মায়ের সাথে কথা বললে তিনি জানান, এ বাচ্চার কারনে তো আমার মেয়ের বিয়ে হবেনা। তাই যার সন্তান তাকে দিয়ে গেলাম। তার সন্তান সে কিভাবে রাখবে সেটা সে যানে।
এমন নিষ্ঠুর হৃদয় বিতারক ঘটনায় অনেকে দু:খ প্রকাশ করেছেন। সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন গর্ভবতী থাকা অবস্থায় স্ত্রী কিভাবে তালাক হয় ?। আর একদিনের বাচ্চার যদি কোন অঘটন ঘটে তবে তার দায়িত্ব কে নেবে। বাবা মায়ের বিচ্ছেদের কারনে তো একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন এমন হতে পারেনা।
নিষ্পাপ শিশুটিকে বাঁচাতে এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রসাশন ও মানবাধিকার সংস্থা গুলোর সহযোগীতা কামনা করেছেন স্থানীয় গনমাধ্যমকর্মীরাসহ এলাকার সচেতন মহল।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি