জুয়াড়ির সঙ্গে সাকিবের সেই কথোপকথন

জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন রাখায় সাকিব আল হাসানকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দুই বছর নিষিদ্ধ করেছে। দীপক আগারওয়াল নামের এক জুয়াড়ি বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করলেও তিনি বিষয়টি আইসিসি কিংবা বিসিবিকে জানাননি। কী কথা হয়েছিল ওই জুয়াড়ির সঙ্গে, আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী ইউনিটের (আকসু) কাছে বলেছেন সাকিব।

মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সাকিবের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার সঙ্গে আইসিসি পুরো ঘটনার দৃশ্যপট তুলে ধরেছে। আকসুর কাছে দেওয়া সাকিবের তথ্যে ওঠে এসেছে তিনবার আগারওয়াল তাকে ম্যাচ পাতানোর বিভিন্ন ইঙ্গিত দিলেও সেটা তিনি জানাননি আইসিসি কিংবা বিসিবিকে। জুয়াড়ির সঙ্গে সেই কথোপকথন তুলে ধরা হলো-

২০১৭ সালের নভেম্বরে ঢাকা ডায়নামাইটসের সদস্য ছিলেন তিনি (সাকিব)। এই দলটি সে বছর ৪ নভেম্বর থেকে ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলেছে।
তিনি জানতেন তার ফোন নম্বর (দীপক) আগারওয়ালকে তারই পরিচিত এক ব্যক্তি দিয়েছিলেন। আগারওয়ালই ওই ব্যক্তিকে বিপিএলে খেলা অন্যান্য ক্রিকেটারদের নম্বর সরবরাহ করতে বলেছিলেন।

২০১৭ সালের নভেম্বরের মাঝামাঝি আগারওয়ালের প্ররোচনায় তার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করেছিলেন। ওইসব বার্তায় আগারওয়ালের সঙ্গে দেখাও করতে চেয়েছিলেন সাকিব।

২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ দলে ছিলেন তিনি (সাকিব)। এই সিরিজের সময় তিনি ও আগরওয়াল আবারও হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে কথা বলেন।

২০১৮ সালের ১৯ জানুয়ারি আগারওয়ালের কাছ থেকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান তিনি (সাকিব)। সেই বার্তায় ওইদিনের খেলায় ‘ম্যান অব ম্যাচ’ নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানানো হয়। এই বার্তার ধারাবাহিকতায় অন্য এক বার্তায় আগরওয়াল বলেন, “আমরা কি এটাতে ‘ওয়ার্ক’ করব, নাকি আইপিএল পর্যন্ত অপেক্ষা করব”।

এই মেসেজে ‘ওয়ার্ক’ বলতে তাকে আগরওয়ালের কাছে (খেলা সংশ্লিষ্ট) অভ্যন্তরীণ তথ্য সরবরাহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়।

আগারওয়ালের দিক থেকে এই যোগাযোগের কথা তিনি আকসু কিংবা অন্য কোনও দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকাশ করেননি।

২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি আবারও আগারওয়ালের কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান। তাতে আগারওয়াল তাকে আবারও অভ্যন্তরীণ তথ্য সরবরাহের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘ভাই, এই সিরিজে কিছু হবে?’

তিনি (সাকিব) স্বীকার করেন, এই বার্তাটি ছিল তখনকার চলমান ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে আগরওয়ালের (অভ্যন্তরীণ) তথ্য চাওয়ার প্রস্তাব।

আগারওয়ালের চাওয়া এই অভ্যন্তরীণ তথ্যটির ব্যাপারে সাকিব আকসু কিংবা অন্য কোনও দুর্নীতি বিরোধী কর্তৃপক্ষকে কিছু জানাননি।
২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিল তিনি (সাকিব) আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবের বিপক্ষে খেলতে নামেন।

খেলার দিন আগারওয়ালের কাছ থেকে সাকিব একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পান, যেখানে আগারওয়াল তার কাছে ‘নির্দিষ্ট’ এক ক্রিকেটারের ব্যাপারে জানতে চান যে, তিনি সেদিনের ম্যাচ খেলবে কিনা। অর্থাৎ আরও একবার ভেতরের খবর জানতে চান তিনি।

আগারওয়াল তার এই আলোচনা অব্যাহত রাখেন এবং বিটকয়েন, ডলার অ্যাকাউন্ট নিয়ে কথা বলেন ও সাকিবের ডলার অ্যাকাউন্টের ব্যাপারে জানতে চান। এই পর্যায়ে সাকিব আগারওয়ালকে বলেন, তিনি আগে তার সঙ্গে ‘সাক্ষাৎ’ করতে চান।

২০১৮ সালের ২৬ এপ্রিলের এই বার্তাগুলোর সঙ্গে অনেকগুলো মুছে ফেলা বার্তাও পাওয়া যায়। সাকিব নিশ্চিত করেন, এর মধ্যে ভেতরের খবর জানতে চাওয়ার অনুরোধমূলক বার্তাও ছিল।

সাকিব নিশ্চিত করেন, আগারওয়ালকে তিনি একজন ‘ফন্দিবাজ’ হিসেবেই চিনতেন, আর আলাপচারিতার মধ্য দিয়ে বুঝে যান ওই ব্যক্তি একজন বাজিকর।

২৬ এপ্রিল আগাওয়ালের কাছ থেকে পাওয়া প্রস্তাব ও কথোপকথনের ব্যাপারেও আকসু কিংবা অন্য কোনও দুর্নীতি বিরোধী কর্তৃপক্ষকে কিছু জানাননি সাকিব।

সাকিব আকসুকে বলেন, আগরওয়ালের কাছে পাওয়া কোনও প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি। তার কথা মতো কোনও কাজ করেননি। তার অনুরোধ মেনে তাকে কোনও তথ্যও দেননি। আগারওয়ালের কাছ থেকে কোনও অর্থ কিংবা অন্য কোনও পুরস্কারও নেননি। তবে তিনি এইসব আলাপের বিষয়ে কখনও আকসু কিংবা অন্য কোনও দুর্নীতি বিরোধী কর্তৃপক্ষকে কিছু জানাননি।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর