দেশে প্রতি ১০ বছর পর পর আদমশুমারি হয়। সর্বশেষ পঞ্চম আদমশুমারি হয়েছিল ২০১১ সালে। এবার ষষ্ঠ আদমশুমারি হতে যাচ্ছে ২০২১ সালে। ২০২১ সালের ২ থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আদমশুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হবে। তবে এবার আদমশুমারি নামের পরিবর্তে এর নাম হবে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’।
এ লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২১’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের উদ্যোগে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জনশুমারি ও গৃহগণনা করবে।
এতে মোট ব্যয় হবে ১ হাজার ৭৬১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ১ হাজার ৫৭৮ কোটি ৬৮ লাখ এবং বৈদেশিক অর্থায়ন ১৮৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম. এ. মান্নান বলেন, ‘২০২১ সালের ২ জানুয়ারি জনশুমারি ও গৃহগণনা শুরু হবে। ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত একটানা এই গণনা চলবে।’
গণনা নিয়ে গত শুমারিতে প্রশ্ন উঠেছিল, এমন কথার জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘শোনেন, এবার গণনার পরেও কেউ কেউ বলবে আমাকে গুণে নাই। এত বড় মহাযজ্ঞ, কেউ যে বাদ পড়বে না, এ সমন্ধে কোনো সন্দেহ নাই। কারণ, শুমারি শেষে বাড়িতে আসতে আসতে আরও অনেক শিশু জন্ম নেবে। পরিসংখ্যান মানে পাল্লায় মেপে নয়। অর্থনীতিতে এগুলোকে বলে ট্রেন্ড। ট্রেন্ড দিয়ে আমরা বিচার করি।’
এই জনশুমারিতে প্রতিটি খানা ও শতভাগ জনগণকে অন্তর্ভুক্ত করা, আর্থ-সামাজিক তথ্য সংগ্রহ করা, বিদেশে অবস্থানকারী প্রবাসী ও বাংলাদেশে অবস্থানকারী বিদেশি নাগরিকদের গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা, ব্যষ্টিক ও সামষ্টিক পর্যায়ে পরিকল্পনা গ্রহণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বেঞ্চ মার্ক তথ্য সংগ্রহ করা, আর্থ-সামাজিক জরিপের জন্য নমুনা ফ্রেম প্রস্তুত করা, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচনী এলাকা নির্ধারণের জন্য তথ্য সরবরাহ করা, জাতীয় সম্পদ বণ্টন ও কোট নির্ধারণে তথ্য সরবরাহ করাসহ নানা কাজে তথ্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই জনশুমারি ও গৃহগণনা করা হবে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস