প্রতিপক্ষ হিসেবে মোহনবাগানকে দেখতে চান কোচ মারুফুল হক

মুহাম্মাদ হুমায়ুন চৌধুরী, ব্যুরো চীফ চট্টগ্রাম: ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে মোহনবাগানকে দেখতে চান বলে জানান শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল নিশ্চিত করা দল চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের কোচ মারুফুল হক।

সেমি-ফাইনাল অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় মোহনবাগানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে সেরা একাদশের ছয় খেলোয়াড়কে বিশ্রাম দিয়েছিলেন চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক। যার দরুন তৃতীয় ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে জয়ের ধারায় ব্যাঘাত ঘটে চট্টগ্রাম আবাহনীর। আই-লিগের ২০১৪-১৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নরা ফাইনালে উঠলে এবার পুরো শক্তির দল নিয়ে তাদের হারানোর লক্ষ্য চট্টগ্রাম আবাহনী কোচের।

তিনি বলেন, “মোহনবাগানের কাছে হারার পর নানান দিক হতে নানান প্রশ্ন অভিযোগ উঠেছে যে, কেন মোহনবাগানের কাছে হারলাম। কেন তাদের বিরুদ্ধে পরিপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করলামনা।

জামাল ভুঁইয়াকে পরে কেন নামালাম সহ আরো অনেক কথা। তাই প্রতিশোধ নিতে নয়। পরিপূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে তাদের মোহনবাগানের বিরুদ্ধে কেমন খেলা হয়। তা দেখার উদ্দেশ্যেই ফাইনালে মোহনবাগানকে দেখতে চাই।”

মোহনবাগানের নিকট হারের কারণ স্বরূপ উল্লেখ করে কোচ মারুফুল বলেন, “টানা কয়েকটি ম্যাচ খেলাতে দলের নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়রা কিছুটা ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পরেছিল। আর আমাদের সেমিফাইনালে খেলাও নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সেমিফাইনালে জেতা।

তাই মোহনবাগানের বিরুদ্ধে সেদিন তাদের মাঠে না নামিয়ে সেমিফাইনালের জন্য রেস্ট ও রিকভার হওয়া জরুরি মনে করেছিলাম। যার ফলাফল আপনারা দেখেছেন৷ কিভাবে গোকুলামকে তারা হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। এখন আবার আরেকটি সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলার মধ্যবর্তী সময়ে তারা ফাইনালের জন্য নিজেদের তাজা ও প্রানবন্ত করার সুযোগ পেয়েছে। আশা করি ফাইনালে তারা সেমিফাইনালের চেয়েও ভালো খেলা উপহার দিবে এবং শিরোপা অর্জনে সফল হবে।”

উল্লেখ্য, গ্রুপ পর্বে মোহবাগানের কাছে ১-০ গোলে হেরেও সেমিফাইনালে ২৮ অক্টোবর কেরেলার গোকুলাম এফ সি’র মুখোমুখি হয়েছিল আয়োজক দল চট্টগ্রাম আবাহনী।

সেমিফাইনালে গোকুলামের নিকট ১ গোল পিছিয়ে প্রথমার্ধের খেলা শেষ হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সমতা ফেরান দিদিয়ার। এরপর গোকুলাম আরো এক গোল করলে আবাহনীর ফাইনাল খেলার আশা অনেকটা ম্লান হয়ে যায়। কিন্তু খেলার ঠিক অন্তিম মুহূর্তে যখন দেশব্যাপী আবাহনীর সমর্থকরা প্রিয় দলের হারে হতাশার প্রহর গুনছিলো। ঠিক তখন দিদিয়ারের গোলে সমর্থকদের মনে আশার আলো জ্বালিয়ে দেন প্রথম গোল করা দিদিয়ার।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে খেলার ফলাফল ২-২ ড্র হলে রেফারি অতিরিক্ত ১৫ মিনিট খেলার সময় নির্ধারণ করেন।

অতিরিক্ত ১৫ মিনিটের খেলায় প্রতিপক্ষের শিবিরে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে চট্টগ্রাম আবাহনীর খেলোয়াড়েরা। যার সুবাদে চিনেদু ম্যাথিউর হেডে আসে আবাহনীর জয়সূচক গোল। অতিরিক্ত সময়ে এক গোল হজমের পর গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে গোকুলাম কেরালার খেলোয়াড়েরা।

এমনকি তাতের গোলকিপার সহ সরাসরি আবাহনীর ডি বক্সে ঢুকে আক্রমণের চেষ্টা করেন। কিন্তু হিতে বিপরীত হয়ে গেল। উল্টো গোকুলামের নির্ভরযোগ্য এক খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়। এতে গোকুলামের মনোবল ভেঙে যায় এবং ৩-২ গোলে হেরে ফাইনাল খেলার আশা অপূর্ণ রেখেই তাদের বিদায় নিতে হয় শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল টুর্ণামেন্টের এবারের আসর হতে।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর