এমপি হারুনের জামিন স্থগিত, আবেদন শুনানি আপিল বিভাগে

শুল্ক ফাঁকির মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) হারুনুর রশীদকে হাইকোর্টের দেয়া ছয় মাসের জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের করা আবেদন আগামীকাল (বুধবার) শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছেন চেম্বারজজ আদালত।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের বিষয়ে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নুরুজ্জামানের চেম্বারজজ আদালত এই দিন ধার্য করে আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান।

আদালতে আজ দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। হারুনের পক্ষে খন্দকার মাহবুব হোসেন, জয়নুল আবেদীন ও হারুনুরের স্ত্রী আইনজীবী সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া উপস্থিত ছিলেন।

পরে খুরশীদ আলম খান বলেন, ‘হারুনুর রশীদের জামিন স্থগিত চেয়ে দুদকের করা আবেদনটি বুধবার আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়েছেন চেম্বার বিচারপতি। এই সময়ে এমপি হারুন যাতে বেরোতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।’

এর আগে সোমবার (২৮ অক্টোবর) ওই মামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের এই এমপিকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সাজার রায়ের বিরুদ্ধে হারুনুর রশীদের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে এ আদেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৫০ লাখ টাকার অর্থদণ্ড স্থগিত ও মামলার নথিপত্র তলব করা হয়।

এরপর হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আজ (২৯ অক্টোবর) দুদক আবেদন করে, যা চেম্বার বিচারপতির আদালতে শুনানির জন্য ছিল।

এর আগে সোমবার (২৮ অক্টোবর) হারুনুর রশিদের করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের একক বেঞ্চ তাকে জামিন দেন। আদালতে ওইদিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, মাহবুব উদ্দিন খোকন ও সৈয়দ মিজানুর রহমান।

দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। পরে খুরশীদ আলম খান জানান, আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি জরিমানার দণ্ড স্থগিত করে বিচারিক আদালতের নথি তলব করেছেন।

তিনি আরও জানান, এ মামলায় এক বছর তিন মাস সাজা খেটেছেন এমন বিবেচনায় তাকে জামিন দেয়া হয়েছে। গত ২১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম হারুনুর রশীদকে পাঁচ বছরের দণ্ডের রায় দেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলার পলাতক আসামি চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনায়েতুর রহমান বাপ্পিকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকার অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলার অপর পলাতক আসামি ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় এমপি হারুন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল করেন হারুনুর রশীদ।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, হারুন বিএনপি জোট সরকারের সময় এমপি থাকাকালে ২০০৫ সালে ব্রিটেন থেকে একটি হ্যামার ব্র্যান্ডের গাড়ি শুল্কমুক্ত সুবিধায় কেনেন। গাড়িটি তিনি পরে ইশতিয়াক সাদেকের কাছে ৯৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর সাদেক গাড়িটি চ্যানেল নাইনের এমডি বাপ্পির কাছে বিক্রি করেন।

নিয়ম অনুযায়ী, শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু এমপি হারুন শুল্ক না দিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। এই অভিযোগে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ এমপি হারুনসহ তিনজনের নামে এ মামলা করেন তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক ইউনুস আলী।

মামলায় ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। একই বছর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। হারুনুর রশীদ গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর