ক্রিকেটারদের আন্দোলনের পর থেকে নানা ইস্যুতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে সংবাদমাধ্যমের ‘হটকেক’ ইস্যু এখন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার!
ভারত সফরে সাকিবের অংশগ্রহণে অনিশ্চয়তা থেকে শুরু করে এখন ফিক্সিং ইস্যুতেও তার নামটি জড়িয়েছে সবশেষ। জুয়াড়িদের অনৈতিক প্রস্তাব গোপন রাখার অভিযোগে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন সাকিব।
জানা গেছে, বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাকে ১৮ মাসের নিষেধাজ্ঞা দিতে যাচ্ছে। এর ফলে সব ধরনের ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছেন তিনি।
সব মিলিয়ে চরম সংকটে আছেন সাকিব। এত সংকটে কখনও পড়েননি তারকা অলরাউন্ডার। তারকা ক্রিকেটারের এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে সিনিয়র সাংবাদকি সানাউল্লা লাভলু সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ফেসবুকে তার মতামত ব্যক্ত করেছেন। নিম্নে লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
‘সক্রিয় সাংবাদিকতায় যতোদিন ছিলাম, নিজের জন্য একটা অলিখিত নিয়ম করে নিয়েছিলাম। রিপোর্টার হিসাবে রাজনীতি, পার্লামেন্ট, ব্যবসা-বাণিজ্য, শেয়ারবাজার, আইন-আদালত; মনে হয় খেলা ছাড়া কমবেশি সব বিটেই কাজ করেছি। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাও করেছি। প্রথম আলোয় এক সময় আমার বিট ছিল, ‘বৃহৎ ধনিক গোষ্ঠী’। সহকর্মীরা এ নিয়ে বেশ মজাই করতো সে সময়।
নিজের তৈরি করা নিয়মটা ছিল, যেখানে যেতাম; যতো ধনীদের সঙ্গে দেখা হতো, অফিস ফিরেই সম্পাদককে অবহিত রাখতাম। আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব পেয়েছি অনেকবার, সে সবই সঙ্গে সঙ্গে সম্পাদককে জানিয়েছি। যখনই কোনো বড় কেলেঙ্কারির খবর করেছি, দেখেছি অভিযুক্তরা আমার বা সহকর্মীদের চরিত্র হননে নেমে যেতো। কিন্তু নিজের কাছে, প্রতিষ্ঠানের কাছে স্বচ্ছ থেকে চলেছি সবসময়।
আমি মনে করি সব সাংবাদিকের এই রীতি মেনে চলা উচিত।
কথাগুলো এমন সময়ে মনে এলো যখন আমাদের ক্যাপ্টেন সাকিব আল হাসানের নিষিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কার খবর পেয়েছি। এ নিয়ে সমর্থকদের উত্তেজনা, ক্ষোভের কথা পড়ছি ফেসবুকে।
গত বেশ ক’দিন ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে ভীষণ তোলপাড় আমরা সবাই। ক্রিকেটারদের আন্দোলন, সমস্যার সমাধান, ভারত সফর, এ নিয়ে বোর্ড প্রধানের ষড়যন্ত্র, চক্রান্তের ‘তত্ত্ব-তথ্য’ শুনে-পড়ে মাথা রীতিমতো নষ্ট হওয়ার অবস্থা। এর মধ্যে সাকিবকে নিয়ে এই খবর দলের অন্ধ সমর্থক হিসাবে আমাদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
জানি, যতো খারাপই হোক না কেন সাকিব এই সংকট থেকে নিজেকে বের করে আনার ক্ষমতা রাখেন। একটা বাজে সময় পার করে গত ওয়ার্ল্ড কাপে নিজেকে তিনি ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। সব সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ব্যাট আর বলে।
তবুই সাকিবের মতো সিনিয়র ক্রিকেটার এমন একটা ভুল কেন করলেন, তার ব্যাখ্যা কিছুতেই পাচ্ছি না। এমন না যে নিয়মটা তিনি জানেন না। এর আগে ২০০৮ সালে এরকম এক ফিক্সিং প্রস্তাব পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বিসিবি ও আকসুকে জানিয়েছিলেন। হতে পারে এবার বিষয়টা তিনি গুরুত্ব দেননি। তবু তার মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার, বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে এটা আশা করিনি।
সাকিব কোনো অপরাধ করেননি। এটাই আমাদের সান্তনা আর স্বস্তি। এই খারাপ সময় সাকিব পাড়ি দেবেন নিশ্চিত। আর আমরাও সাকিবের পাশে থাকবো, সুসময়ের মতো, দুঃসময়েও।’
বার্তাবাজার/কে.জে.পি