ভারতের জন্মু-কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর বিরোধী দলীয় সংসদদের সেখানে প্রবেশে বাধা দিলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমপিদের একটি দলকে কাশ্মীরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিল মোদি সরকার।
সোমবার (২৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠকের পরে ২৮ জনের এ প্রতিনিধি দলটি মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) কাশ্মীরে পৌঁছচ্ছে। এদিকে উরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, এটি সরকারি সফর নয়। বিদেশি এমপিরা প্রত্যেকেই বেসরকারি ভাবে এ দেশে এসেছেন। এ প্রতিনিধি দলের অনেকেই আবার অতি দক্ষিণপন্থী, শরণার্থীবিরোধী বলে পরিচিত দলের সদস্য।
এদিকে বিরোধীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্নের মুখে পড়ে বিজেপি সরকারই বাছাই করা এমপিদের আমন্ত্রণ জানিয়ে কাশ্মীরে পাঠাচ্ছে। যাতে তাদের ইতিবাচক রিপোর্টে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কথা বলতে সুবিধা হয়। এদিকে প্রতিনিধি দলের সদস্য বিএন ডান বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবটাই ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বাস্তব পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করব।
কাশ্মীরে সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ এবং তার পরে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার পরে এই প্রথম কোনও বিদেশি প্রতিনিধি দল কাশ্মীরে যাচ্ছে। তিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, মেহবুবা মুফতি, ফারুক ও ওমর আবদুল্লাসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাকেই আটক করে রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের বাইরে থেকে কোনও রাজনীতিক সেখানে যেতে গেলেও বাধা পাচ্ছেন।
কয়েকদিন আগেই মার্কিন কংগ্রেসের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লির কাছে দাবি তোলা হয়েছিল, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যদের কাশ্মীরে যেতে দেওয়া হোক। কারণ নয়াদিল্লি যা বলছে, সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট তার সঙ্গে মিলছে না। বিরোধীরা মনে করছেন, চাপ কাটাতে মার্কিন কংগ্রেসের বদলে নিজেদের বাছাই করা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যদের কাশ্মীরে নিয়ে যাচ্ছে মোদি সরকার।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি