ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বিতর্কিতদের বাদ দিতে তিনদিনের আলটিমেটাম দিয়েছেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতারা। সোমবার সন্ধ্যায় মধুর ক্যান্টিনে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের সঙ্গে এক বৈঠকে এ হুশিয়ারি দেন তারা।
এই সময়ের মধ্যে বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না দেখলে ফের কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। এ সময় পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া অন্তত ৩০ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র ও ছাত্রলীগের সাবেক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। এখনও বিতর্কিতদের বাদ দেয়া হয়নি। ফলে সংগঠনে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।
কেন্দ্রীয় নেতাদের জেলাভিত্তিক দায়িত্ব না দেয়ায় তৃণমূল সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্বকে সংগঠন গতিশীল করার লক্ষ্যে বিতর্কিতদের বাদ দিতে তিনদিনের মধ্যে দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ করতে বলেছি। তা না হলে আলোচনার মাধ্যমে ফের আন্দোলনে যাব।
পদবঞ্চিত নেতা সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ বলেন, ‘আমরা তাদের সাথে কথা বলেছি। তাদের কথা শুনে মনে হয়েছে তারা এ ব্যাপারে অক্ষম। কারণ আমর মনে হচ্ছে তাদের সাংগঠনিক ক্ষমতা দেয়া হয়নি। তারা বারবার বলছেন, আপা (শেখ হাসিনা) তাদের স্লোলি সব করতে বলেছেন। আমরা তাদের তিনদিনের সময় দিয়েছি।
এর ভেতর তারা যদি কোন পদক্ষেপ না নিতে পারেন, তাহলে আমরা যদি বিতর্কিতদের পার্টি অফিস, মধুর ক্যান্টিন এবং ছাত্রলীগের সকল প্রোগ্রাম থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করি এ ক্ষেত্রে তাদের কিছু করার থাকবে না। কারণ আমরা অসাংগঠনিকভাবে কিছু করছি না।
সাংগঠনিভাবে তারা যতদিন প্রমাণিত না হয় যে, তারা নির্দোষ- ততদিন তারা প্রোগ্রামে আসবে না। আর এটার জন্য যদি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার জন্য শীর্ষ নেতৃত্ব দায়ী থাকবে।’
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান বলেন, আমরা বিতর্কিতদের অবশ্যই রাখব না। এই বিষয়টি আগেই পরিষ্কার করেছি। কিন্তু সবাই তো জানেন আমরা কীভাবে একটি বিশেষ অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছি। ফলে অনেক কিছুই বুঝে-শুনে এগোতে হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমরা সবাইকে নিয়েই কাজ করছি। বিতর্কিতদের বাদ দিতে শুরু থেকেই আমরা কাজ করছি। আশা করছি খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারব।
ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর দলের একাংশ কমিটিতে বিতর্কিতদের পদ দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে আন্দোলনে নামে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিকে নির্দেশ দিলেও এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারেননি তারা।
বার্তাবাজার/কেএ