মুহাম্মাদ হুমায়ুন চৌধুরী, ব্যুরো চীফ চট্টগ্রাম: দুর্দান্ত খেলার বিনিময়ে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপের ফাইনালে পৌঁছে গেল টুর্ণামেন্ট আয়োজকের দল চট্টগ্রাম আবাহনী।
সোমবার(২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রাম এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব ফুটবল টুর্ণামেন্টের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দেশের একমাত্র দল হিসেবে টুর্ণামেন্ট আয়োজক দল চট্টগ্রাম আবাহনী ও ভারতের গোকুলাম কেরালা এফ সি। দুই গোল করেন চট্টগ্রাম আবাহনীর মিডফিল্ডার চার্লস দিদিয়ের এবং অতিরিক্ত সময়ে জয়সূচক গোলটি করেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড চিনেদু ম্যাথু।
খেলা শুরুর পর হতে গোলের বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি চট্টগ্রাম আবাহনী। এরই মাঝে খেলার ২৯ মিনিটে চট্টগ্রাম আবাহনীর গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে গোকুলাম কেরালার পক্ষে প্রথম গোলটি করেন জোসেফ জোসেফের গোলে ১-০ তে পিছিয়ে পরে চট্টগ্রাম আবাহনী। এরপর ৪৬ মিনিটে আবাহনীর ফরোয়ার্ড দিদিয়ের পাঁয়ে আসে সমতা সূচক গোল। ফলে প্রথমার্ধের খেলার ফলাফল দারায় ১-১ এ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু হতেই একের পর এক আক্রমণ করে যাচ্ছিল হলুদ নীলের জার্সিধারী দল চট্টগ্রাম আবাহনী কিন্তু স্ট্রাইকার লুকা রতকোভিচের ব্যর্থতায় এগিয়ে যেতে পারেনি আবাহনী। উল্টো খেলার ৭৯ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে দুর্দান্ত শটের মাধ্যমে গোল করে বসে গোকুলামের স্ট্রাইকার কিসেক্কা। খেলার ফলাফল দারায় গোকুলাম ২ ও আবাহনী ১ গোল।
দুই গোলে পিছিয়ে পরা চট্টগ্রাম আবাহনী সমতা ফিরাবার লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে ওঠে। মুর্হুমুহু আক্রমণ চালাতে থাকে। যার সুবাদে খেলার ঠিক অন্তিম মুহূর্তে দলকে সমতায় ফিরান দিদিয়ার। ফলে খেলা ২-২ গোলে ড্র হলে নির্ধারিত সময় শেষে রেফারি অতিরিক্ত সময়ে খেলার ফলাফল নির্ধারণের নির্দেষ দেন।
আর এই অতিরিক্ত সময়ে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড ও চট্টগ্রাম আবাহনীর স্ট্রাইকার চিনেদু ম্যাথু। ফলে ভারতের গোকুলাম কেরালা এফসিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম আবাহনী।
অতিরিক্ত সময়ে চিনেদু ম্যাথিউ’র করা জয়সূচক গোলটি ছিল দেখার মত। বাঁ প্রান্ত থেকে সতীর্থের মাইনেস করা বলে জোরালো শট নেন চিনেদু ম্যাথিউ। যা গোকুলামের ডিফোন্ডারের গায়ে লেগে ফেরত আসে। ফিরতি বলে এবার উড়ন্ত হেড মেরে তিনজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন চিনেদু ম্যাথিউ।
তৃতীয় গোল খাওয়ার পর হতে খেলায় সমতা পিরাতে মরিয়া হয়ে ওঠে গোকুলাম কেরালার খেলোয়াড়েরা। গোকুলাম কেরালার গোলকিপার সহ খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনতে গোল পোস্ট ছেড়ে আবাহনীর গোলপোস্টে আক্রমন চালায়। যার ফলশ্রুতিতে খেলার ঠিক ১১৫ মিনিটে দারুণ এক সুযোগ পেয়েছিল গোকুলামের খেলোয়াড়। কিন্তু তা গড়িয়ে আবাহনীর রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে ফেরত আসলে অন্য এক ডিফেন্ডার দ্রুত তা ডি বক্সের বাইরে ক্লিয়ার করেন।
তৃতীয় গোলের পর গোকুলাম দারুণ খেলা খেললেও কিছুতেই কিছু হলোনা। উল্টো অতিরিক্ত সময়ের শেষের দিকে লাল কার্ড দেখিয়ে রেফারি গোকুলামের একজন খেলোয়াড়কে বহিষ্কার করলে গোকুলামের ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন একপ্রকার শেষ হয়ে যায়। তার একটু পরই রেফারির বাঁশিতে নিশ্চিত হয় চট্টগ্রাম আবাহনীর ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা। ৩-২ গোলে জয়লাভ করে দাপটের সাথে ফাইনালে পদার্পন করার পথ নিশ্চিত করে টুর্ণামেন্ট আয়োজক দল চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড।
মঙ্গলবার(২৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে টুর্ণামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারতের ঐতিহ্যবাহি ফুটবল দল মোহনবাগান ও আর মালয়েশিয়ার তেরেঙ্গানু এফসি।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস