এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: মিথ্যা অভিযোগে চাকুরিচ্যুত হওয়ার ভয়ে ইঁদুর মারা বিষ খেয়ে গৃহবধু আয়েশা বেগম (৩৫) আত্মহত্যার ঘটনায় ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেছেন তার স্বামী।
স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে এমন অভিযোগ এনে রবিবার রাত সাড়ে ১১টার সময় গৃহবধুর স্বামী মোজাম্মেল হক বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করে আরও অজ্ঞাত ২০/২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন বলে সোমবার বিকালে বার্তাবাজারকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোসাব্বেরুল হক।
আত্মহত্যা করতে বাধ্য হওয়া গৃহবধু আয়েশা বেগম ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের রিক্সাচালক মোজাম্মেল হকের স্ত্রী। এ নিয়ে বার্তাবাজারে রবিবার রাতে “ইঁদুর মারা বিষ খেয়ে গৃহবধুর আত্মহত্যা” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়।
আসামীরা হলেন-জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের লালাপুর ডাঙ্গীপাড়া গ্রামের খলিলুর রহমান (৬০), ফারুহ হোসেন (২৮), এলাহি (২০), খাইরুল ইসলাম (২৭), দেলোয়ার হোসেন (৩২), মাহাফুজ (২২), সলিম উদ্দীন (৪৫), সহিদুল ইসলাম (৩৭), আনোয়ার হোসেন (২২), মকবুল হোসেন (৩৬), মিন্টু মিয়া (২২), বাবলাহ (২৩), বাবুল ইসলাম (৬০), রেজিয়া পারভীন (৫৫), রফিক (৩৭) এবং কালমেঘ বারঢালী গ্রামের ফারুক হোসেন (৫৫) সহ আরও অজ্ঞাত ২০/২২ জন।
গৃহবধুর স্বামী ও মামলার বরাতে ওসি জানান, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা পরিষদ মাস্টাররোলে আয়া পদে কর্মরত ছিলেন আয়েশা বেগম। গত ২৪ অক্টোবর স্থানীয় একটি ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে রাত সাড়ে ১১টার সময় গৃহবধুর বাড়ী সীমানার বেড়া ভাংচুরসহ আয়েশাকে গালিগালাজ করে আসামীরা। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আয়েশাকে উপজেলা পরিষদের চাকুরীচ্যুত করার হুমকি দেয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফজলুর রহমান বিষয়টি মীমাংসা করে দিলেও মেনে নেননি আসামীরা।
তিনি আরও বলেন, গতকাল রবিবার গৃহবধুর বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদে মিথ্যা অভিযোগ দায়ের হয়েছে শুনে বালিয়াডাঙ্গী চৌরাস্তা বাজারে এসে ইঁদুর মারা বিষ (গ্যাস ট্যাবলেট) খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। গৃহবধুর অবস্থা আশংকাজনক দেখে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে রেফার্ড করে দেন।
গৃহবধুর স্বামী মোজাম্মেল হক জানান, ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে ভেলাজান নামক স্থানে গেলে তার মৃত্যু হয়। আমার স্ত্রীকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে আসামীরা। আমি এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাচ্ছি।
বালিয়াডাঙ্গী থানার উপ-পরিদর্শক রাশিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, গৃহবধুকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে আসামী পক্ষের লোকজন। প্রাথমিক তদন্তে এমন প্রমাণ মিলেছেন। বিষয়টি পুলিশ তদন্তের পাশাপাশি আসামীদের গ্রেফতারে তৎপর অভিযান চালাচ্ছে।
তবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল জানান, আমার দপ্তরে আয়েশার বিরুদ্ধে কোন লিখিত অভিযোগ প্রদান করেননি। একটি অনুষ্ঠানে ওই এলাকার কিছু লোক তার বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছিল। বিষয়টি লিখিত ভাবে জানানোর জন্য আমি বলেছিলাম। আয়েশা এমন মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি গৃহবধুর পরিবারকে সহায়তার আশ্বাস জানান তিনি।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, গৃহবধুর মৃত্যুর পর এলাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। আসামীদের বাড়ীতে গিয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। গৃহবধুর মৃত্যুর খবরে আসামীরা এলাকা ছেড়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বার্তাবাজার/এম.কে