মোস্তাফিজ রাকিব, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে এক শিক্ষকের দায়ের করা মানহানী মামলার প্রতিবাদে প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিদ্রোহী গ্রুপের নেতাকর্মীরা। সোমবার বেলা ১টা ৩০ থেকে তারা এ বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়ায় চালিত কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ রুটে চলাচল করা একতলা দোতলা প্রায় ২০টি বাস অবরুদ্ধ হয়ে পরে। ফলে কয়েক শতাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পরতে হয়।
আধ ঘন্টা পরে প্রধান ফটকের তালা খুলে দেয়া হলেও এসময় সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিরক্তি প্রকাশ করে।অনেককে বাধ্য হয়ে লোকাল বাসে চড়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা ক্ষুব্ধ মত প্রকাশ করে বলেন,পরিবহন নির্ভর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কুষ্টিয়া ঝিনাইদহ শহরে অবস্থান করে যাদের অধিকাংশই টিউশনির সাথে জড়িত সময় মতো পৌছাতে না পারলে ভোগান্তিতে পরতে হয়। তাদের দাবী তারা গুটিকয়েক শিক্ষার্থীদের কাছে জিম্মি। এবিষয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি বেসরকারি টেলিভিশনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অস্থিরতা” বিষয়ক লাইভ সাক্ষাৎকার দেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমান লালন। এসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ করে মানহানিকর বক্তব্য উপস্থাপন করায় অধ্যাপক মাহবুব গত ১৭ অক্টোবর কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইবি আমলী আদালতে তাকে মামলার প্রধান বিবাদী করে ১০০ কোটি টাকার মানহানী মামলা দায়ের করেন। এতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের প্রধান সম্পাদক মুনজুরুল ইসলামকে ২ নম্বর বিবাদী করে দন্ডবিধির ৫০০/৫০১/৫০২ ধারা মোতাবেক মামলাটি দায়ের করা হয়।
এবিষয়ে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান সাংবাদিকদের বলেন,আমার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সমূহের তথ্য প্রমান দিতে পারলে আমি বিশ্বিবিদ্যালয় ছেড়ে চলে যাবো। আমি আমার সাংবিধানিক অধিকার গ্রহণ করে অভিযোগকারীদের সেই সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। আর যদি তথ্য প্রমাণ না দিতে পারে তাহলে আনুষ্ঠানিকভাবে আমার সততার স্বীকৃতি দিতে হবে। এব্যাপারে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন এবং প্রশাসনের কাছে এব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছিলাম তাদের কাছ থেকে কোনরকম সাড়া না পেয়ে আমি আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।
এদিকে বিক্ষোভ শেষে বিদ্রোহীরা উপাচার্য এর কক্ষে গিয়ে মামলা প্রত্যাহার ও অধ্যাপক ড মাহবুবুর রহমানকে সকল প্রকার প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির দাবি জানালে,
এসময় উপাচার্য প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, “ আমরা তার সাথে কথা বলেছি, তিনি বিষয়টি তার ব্যাক্তিগত বলে জানিয়েছেন। তারপরেও সমস্যা নিরসনে তার সাথে আলোচনা করা হবে। উপাচার্য তাদেরকে প্রধান ফটক খুলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলে তারা প্রধান ফটক তুলে দেয় বলে জানা গেছে।
বার্তাবাজার/এম.কে