নান্নার ইউনিয়নে ইজিপিপি প্রকল্পে ভেকু ব্যবহারের অভিযোগ

মোঃ আল মামুন খান, সাব-ব্যুরো প্রধান (সাভার/ধামরাই): ঢাকার ধামরাই উপজেলার ১৬ নং নান্নার ইউনিয়নে ২০১৮-১৯ ইং অর্থবছরে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) প্রকল্পে ভেকু (খননযন্ত্র) ব্যবহার করে রাস্তার উন্নয়ন কাজ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে বিষয়টি সামনে আসে।

এর আগে, ধামরাই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নিকট থেকে ২০১৮-১৯ ইং অর্থবছরের ইজিপিপি প্রকল্পের তথ্য চাওয়া হয় এবং সেই তথ্যের সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে এই অনিয়মের ব্যাপারটি জানা যায়।

উক্ত অর্থবছরে নানার ইউনিয়নে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচী (ইজিপিপি) ২য় পর্যায়ে মোট ৫টি রাস্তার উন্নয়ন কাজে মোট ৮ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ আসে। এর ভিতরে ১নং ওয়ার্ডের ঘোড়াকান্দা সফিজ উদ্দিনের বাড়ী হতে ওসমানের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ কাজটি হতদরিদ্র শ্রমিক এবং ভেকু দিয়ে কাজটি সম্পন্ন করা হয় বলে জানান এই প্রকল্পের সভাপতি ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ অছিমুদ্দিন। মোট ২৫ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে ৪০ দিনে কাজটি শেষ করেন।

এব্যাপারে এই প্রকল্পটির তত্বাবধায়ক মোঃ অছিমুদ্দিন জানান, সরকারী বরাদ্দ প্রতিদিন প্রতি শ্রমিক মাত্র ২০০ টাকা। এই টাকায় শ্রমিক পাওয়া যায় না বিধায় এই রাস্তার বেশ কিছু অংশ করতে আমরা ভেকু ব্যবহার করেছি।

প্রসঙ্গত, অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচীর কাজে হত দরিদ্র শ্রমিক ছাড়া কাজ করানো যাবে না এরকম সরকারী বিধি রয়েছে। এরপরও এখানে বিধি অমান্য করে ভেকু যন্ত্র ব্যবহার করা হয়।

এব্যাপারে স্থানীয় দু’একজনের সাথে কথা বললে তারাও জানান যে, এই রাস্তার কাজ ভেকু ব্যবহার করে শেষ করা হয়।

চাউনা আব্দুল হাকিমের বাড়ী হতে বকলাখোলা পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ কাজটি ২৯ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরি নিয়ে ৪০ দিনে শেষ করে। ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নুরুল হক এর তত্বাবধানে সম্পন্ন এই কাজটিতে সরকারী বরাদ্দ আসে মোট ২ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা।

৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলামের তত্বাবধানে গোপালপুর চার রাস্তার মোড় হতে টাকিমারা ব্রীজ পর্যন্ত ও জলসীন রওশন আলীর বাড়ী হয়ে পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ কাজে সরকারী বরাদ্দ আসে মোট ২ লক্ষ টাকা। ২৫ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে ৪০ দিনে এই কাজটি শেষ করে।

নান্নার রহিমের বাড়ী হতে জয়নালের বাড়ী পর্যন্ত ও নান্নার মান্নানের বাড়ী হতে সিরাজের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ কাজটি মোট ২০ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে সম্পন্ন করে। ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ নুরুল ইসলাম ঠান্ডুর তত্বাবধানে সম্পন্ন হওয়া কাজটিতে মোট ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ আসে।

রঘুনাথপুর পশ্চিমপাড়া রাস্তা হতে বাবু আলীর বাড়ী পর্যন্ত ও গোপালকৃষ্ণপুর কিয়ামুদ্দিনের জমি হতে সিন্ধুলিয়া পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণ কাজটিতে মোট ১ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা সরকারী বরাদ্দ আসে। ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মনিরুজ্জামান এর তত্বাবধানে কাজটি ১৮ জন শ্রমিক দৈনিক ২০০ টাকা মজুরিতে মোট ৪০ দিনে শেষ করে।

বার্তাবাজার/এম.কে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর