হাত নেই শুধুমাত্র পায়ের জোরেই আয়েশা এখন মাস্টার্সে

হাত নেই তো থেমে যেতে হবে! না, থামেননি গাইবান্ধার সাঘাটার আয়েশা আক্তার। শুধুমাত্র পায়ের জোরেই তিনি এখন রাষ্ট্র বিজ্ঞান নিয়ে মাস্টার্স ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী।

জন্ম থেকেই আয়েশার দুটি হাত নেই। জন্ম ১৯৯৩ সালে সাঘাটা উপজেলার পূর্ব কচুয়া গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে।

আয়েশারা চার বোন এক ভাই। সবাই ছোট পড়ালেখা করে। আবার কেউ বাবার ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহযোগিতা করে। বাড়ি বলতে টিনের দোচালা দুটি ঘর। একটিতে আয়েশাসহ ভাই বোনেরা থাকেন অপরটি বাবা মা সহ অন্যান্য জিনিস। প্রতিবন্ধী হয়ে জন্ম গ্রহন করায় নানা প্রতিকূলতার মাঝে তাকে বড় হতে হয়।

দুটি হাত না থাকায় বাবা, মা ও পরিবারের সবাই আয়েশার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান। কিন্তু আয়েশা সব সময় ভাবত কি করে অন্যের সাহায্য ছাড়া একা চলা যায়। আয়েশা হাতের কাজগুলো আস্তে আস্তে পা দিয়ে করার চেষ্টা করতে থাকেন। এখন পা দিয়ে সে স্বাভাবিক মানুষের মতো সব কাজ করতে পারে। দু-পা দিয়ে কাঁথা সেলাই, ল্যাপটপ চালানো, মোবাইলে কথা বলা, রান্না করা, গোসল করাসহ সব কাজ করছেন অন্যর সাহায্য ছাড়া।

পাশাপাশি ছোট বেলা থেকেই তার পড়ালেখার স্বপ্ন ছিল। সে যখন ৫ম শ্রেণিতে ওঠে তখন তার বাবা আব্দুল লতিফ তাকে সার্কাসে দিতে চাইলেও যায়নি সে। সব বাধা অতিক্রম করে পা দিয়েই লেখা পড়া শুরু করেন। এসএসসি ও এইচএসসিতে এ+ এবং ডিগ্রিতে প্রথম বিভাগ পেয়ে এখন গাইবান্ধা সরকারি কলেজে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে মাস্টার্সে ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি।

এলাকার ফটো বেগম জানালেন, দুই হাত ছাড়া জন্ম নেওয়া আয়েশা এখন তার এলাকার জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। মানুষিক ও সামাজিক বাধাকে দূর করলেও আয়েশার সামনে অভাব এখন তার বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। সংসারে অভাবের ফলে চালাতে পারছেন না পড়াশুনার খরচ, কিনতে পারছেন না বই খাতা।

মেধাবী ও স্বপ্নচারী আয়েশার স্বপ্ন জয়ের চেষ্টা সফল করতে তাকে একটি সরকারি চাকরি দেওয়ার দাবী জানিয়েছে তার পরিবার ও এলাকাবাসী।

আয়েশা আক্তার বলেন, ‘কষ্ট করে পড়ালেখা করেছি বাবা মায়ের অভাবী সংসারের সহযোগিতা করবো এবং নিজের একটা সরকারি চাকরি যোগাড় করে নেবো। আশা করি সরকার আমার দিকে সদয় দৃষ্টিতে দেখবেন।’

বাবা আব্দুল লতিফ ও মা ফাতেমা বেগম জানালেন, ছোট বেলা থেকেই আয়েশা খেয়ে না খেয়ে কষ্ট করে সংসারে বড় হয়েছে। তার আশা ছিলো অন্য মেয়েদের মতো স্বাভাবিকভাবে কাজ কর্ম করবে এবং সমাজে বোঝা হয়ে থাকবেনা। সেই তার চেষ্টা সফল হতে চলেছে। সে এখন মাষ্টার্সে পড়ছে।

সাঘাটা উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো: মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আয়েশা এখন গাইবান্ধা কলেজে এমএ পড়ছে এটা আমাদের যেমন গর্ব, তেমনি নিজেও মানুষ হিসাবে সমাজে অন্যদের মতো ভুমিকা রাখতে পারছে।’

সমাজ সেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোঃ এমদাদুল হক প্রামাণিক বলেন, ‘আয়েশার এমন সাহসিকতায় অন্য প্রতিবন্ধীরাও সাহস পাবে।’

শিক্ষা উপ-বৃত্তিসহ তার পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দিলেন জেলা সমাজ সেবা বিভাগের উপ-পরিচালক।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর