গণরুম তো নয়, যেন শরণার্থী শিবির

বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোর গণরুম। প্রতিটি গণরুমে ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন, নেই শিক্ষার কোনো পরিবেশ। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলছেন, আবাসন সংকট সমাধানে নতুন ভবন নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ চলছে।

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমের চিত্র অনেকটাই শরণার্থী শিবিরের মতো। একটি কক্ষেই গাদাগাদি করে থাকছেন বিশ জনের বেশি।বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই শিক্ষার্থীদের। পড়াশোনার পরিবেশ তো দূরের কথা, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কিত তারা।

গণরুমের এক শিক্ষার্থী বলেন, যার প্রভাব বেশি সে প্রভাব খাটিয়ে ২-৩ জনের বেশি লোক রাখে।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের বাবা-মা যদি দেখতো এমন করে আছি। তাহলে কখনও এখানে পড়তে দিতো না।

হলে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

কয়েকজন শিক্ষার্থীরা জানান, বেঁচে থাকতে হচ্ছে তাই তাদের খাবারগুলো খেতে হচ্ছে। আশা ছিল ডাকসু নির্বাচনের পর খাবারের মান উন্নত হবে কিন্তু তা হয়নি।

শিক্ষার্থীদের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন করে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যও নানামুখী সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, নতুন কতগুলো হল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি।

তবে উপাচার্যের আশ্বাসে আশ্বস্ত নন শিক্ষার্থীরা।

নেই দরজা, নেই জানলা এই হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণরুমের চিত্র। আবাসন স‍ঙ্কট সমাধনে বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপশি নির্মাণ করা হয়েছিল বিজয় একাত্তরের মতো সুবিশাল হল। কিন্তু চিত্র এতটুকুও বদলায়নি।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হলে আশায় বুক বেঁধেছিলেন শিক্ষার্থীরা। ভেবেছিলেন সমাধান হবে আবাসন সঙ্কটের। কিন্তু সে আশা এখন মরীচিকা।

বার্তাবাজার/কে.জে.পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর