ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের তরফ হতে একের পর এক পদক্ষেপ ও পরিকল্পনার পরও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় সমস্যা সমাধানে আরো এক মাস লাগবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্সী।
২৭ অক্টোবর (রোববার) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের বাণিজ্যমেলা উদ্বোধন শেষে পেঁয়াজ দরের উর্ধ্বগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের সমস্যাটা সত্যি বলতে আরও একমাস থাকবে। তবে মিশর হতে পেঁয়াজ আমদানির পর পেঁয়াজের দাম অনেকটা কমে আসবে।”
উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বর মাসের শেষ দিকে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণা দিলে বাংলাদেশে পেঁয়াজের দাম ৩০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বৃদ্ধি পায়। সেই সাথে পেঁয়াজের বাজার দর অস্থিতিশীল রাখতে শুরু হয় বেশ কিছু অসাধু কারবারি, আড়তদার ও আমদানিকারকের অপতৎপরতা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সহ আরো দুই একটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি সহ সরকার একের পর এক বাজার অভিযান পরিচালনা করে। ঘন গন বাজার তদারকি ও অভিযানের দরুন পেঁয়াজের দাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও গত দুই দিনে পেঁয়াজের দর আবার অসহনীয় পর্যায়ে উঠে দারায় কেজি প্রতি ১২০ টাকা।
পেঁয়াজের এমন অস্থিতিশীল ব্যবস্থা ও চড়া দামের সমস্যার ব্যাপারে মন্ত্রী টিপু মুন্সী বলেন, “আমাদের পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়াতে হবে। স্বনির্ভর যোগান ব্যবস্থা থাকলে কেহ দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারবেনা। আশা করছি, পরবর্তী বছরে এ সমস্যাটা আর হবে না।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযানে প্রাপ্ত তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে পেঁয়াজের দর বৃদ্ধির জন্য একচেটিয়া কারবারি ও মওজুদকারিদের দায়ী করে মন্ত্রী বলেন, “মজুদদারদের বিরুদ্ধে আমরা শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে হুট করে কোন সিদ্ধান্ত নিলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে বলে আমরা কিছুটা নমনীয়তা অবলম্বন করছি।”
তিনি আরো বলেন, মওজুতকারীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে তাদের মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে বুঝাতে হবে। তাদের আমদানি ব্যবস্থা আরো সহজ করে প্রয়োজনে সকল সুযোগ সুবিধা দেয়া হবে। যাতে তারা পেঁয়াজের মূল্য নির্ধারণে মানবতার দৃষ্টি ভঙ্গি অবলম্বন করেন ও ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করেন।
এছাড়াও তিনি জনস্বার্থে টিসিবির উদ্যোগে চট্টগ্রামের ১০টি পয়েন্টে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন।
বার্তাবাজার/ডব্লিও্এস