ঘর ও জমি বরাদ্দ পেয়েছেন গোয়াল ঘরে অবস্থান নেয়া পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সেই বৃদ্ধ দম্পত্তি। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে তাদেরকে ঘর ও জমি দিচ্ছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি মহিব্বুর রহমান মহিব। ছেলের প্রতারণায় সর্বহারা হয়ে শুকুর দেওয়ান ও সহুরা বেগম নামের এই বৃদ্ধ দম্পতি আশ্রয় নিয়েছিলেন রাস্তার পাশের একটি গোয়ালঘরে। সেখানে দীর্ঘ এক মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তারা।
এ নিয়ে একাধিক গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় এমপিকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমান মহিব উদ্যোগ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে একটি ঘর ও এক একর জমি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
তাৎক্ষনিকভাবে বৃদ্ধ ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে একটি বাড়িতে থাকার ব্যবস্থাও করেন এমপি মহিব।
এদিকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে রাঙ্গাবালী ইউএনও মো. মাশফাকুর রহমান নগদ ১০ হাজার টাকা দেন ওই দম্পতিদের। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে দেয়া ও সংসদ সদস্যের নির্দেশনার সেই ঘরটি নির্মাণের কাজ বাস্তবায়ন করছেন ইউএনও।
প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে দেয়া দূর্যোগ সহনীয় ঘরটি নির্মাণের কার্যক্রম ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। ঘরটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে প্রায় একমাস সময় লাগতে পারে। এ কারণে আপাতত: একটি বাড়িতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ঘরটি উদ্বোধনের আগ পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন এই দম্পত্তি। তাদের খাবারের জন্যও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এছাড়াও বয়স্ক ভাতাসহ স্থানীয় পর্যায়ে দেয়া সরকারের সকল সহযোগিতা পাবেন এই দম্পতি।
সেই বৃদ্ধা সহুরা বেগম বলেন, ‘আমাগো কষ্ট পেপারে দেইখা প্রধানমন্ত্রী আমাগোরে ঘর দিছে, জমি দিছে। এমন প্রধানমন্ত্রী আছে বইল্লাই আমাগো জন্য এই ব্যবস্থা অইছে। আমাগো মতো গরীব মাইনষের খবরও রাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তা না অইলে আমাগো মরণ ছাড়া কোন উপয় ছিল না। প্রধানমন্ত্রীরে আল্লা বাচায় রাহুক, নামাজ পইরা তার জন্য দোয়া করি। আর হেই লগে এমপি মহিব স্যারেরেও দোয়া করি। আমনের মোবাইল দিয়া হে আমাগো লগে ফোনে কথা কইছে। লোক পাঠাইয়া আমাগো খাওনের ব্যবস্থা করছে, থাহার ব্যবস্থা করছে। অনেক কিছুই করছে।’
এ ব্যাপারে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা ঘরটি নির্মাণের কাজ শুরু করেছি।
বার্তা বাজার/এম বি ইউ