কর্ণফুলীতে তেলের ট্যাংকার ফুটো হয়ে নদী দূষণ

তেলের ট্যাংকার ফুটো হয়ে জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পরছে কর্ণফুলী নদী ও সংযুক্ত খাল বিলে। দূষণ হচ্ছে নদী ও সংযুক্ত পরিবেশ।

শুক্রবার ভোরে কর্ণফুলী নদীর ডলফিন জেটি সংলগ্ন এলাকায় ‘দেশ-১’ নামের একটি অয়েল ট্যাঙ্কার ‘সিটি-৩৪’ নামক একটি জাহাজের সাথে ধাক্কা লেগে ফুটো হয়ে যায়। অয়েল ট্যাংকারটি ফুটো হয়ে প্রায় ১০ টন ডিজেল নদীতে ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত আট টনের মতো (পানিমিশ্রিত তেল) নদী থেকে তোলা হয়েছে বলে দাবি করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘দেশ-১’ নামের তেলবাহী জাহাজটি অবস্থান পরিবর্তনের সময় অপর জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ‘দেশ-১’ ফুটো হয়ে তেল ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ট্যাঙ্কারে ১২০০ টন ডিজেল ছিল। পদ্মা জেটি থেকে তেল নিয়ে সেটির খুলনা যাওয়ার পথে ‘সিটি-৩৪’ নামক একটি জাহাজের সাথে ধাক্কা খেয়ে তেলের ট্যাংকার ফুটো হওয়ার দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর আট টনের মতো তেল নদীতে তলিয়ে যায়। যার ৮০ শতাংশ তেল তুলে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বন্দরের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম বলেন, বে ক্লিনার-২ নামক আমাদের তেল অপসারণকারী একটি জাহাজ ঘটনাস্থলের খুব কাছে ছিল। যার সুবাদে দুর্ঘটনার পরপরই দ্রুত তেল অপসারণ শুরু করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর দ্রুততম সময়ে বে ক্লিনার-১ এর সাপোর্ট ভেসেল হিসেবে কান্ডারি-৮, ১০ ও ১১ কাজ শুরু করে। আট টন তেল অপসারণ সম্ভব হয়েছে এবং এখনও কাজ চলছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ তেল অপসারণের দাবি করলেও আশপাশের বিভিন্ন জায়গায় তেল লেগে থাকতে দেখা গেছে। ডলফিন জেটি-৩ এর অদূরে কর্ণফুলীর সাথে সংযুক্ত ৭ নম্বর খালের মুখে তেল ভাসতে দেখা গেছে। ওই এলাকা থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে মহেশখালের মুখে (ইশান মিস্ত্রির হাট সংলগ্ন) খাল পাড়ের ঘাষে ও গাছপালায় তেল লেগে আছে।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বন্দরের একজন কর্মকর্তা বলেন, জোয়ারের সময় তেলের কিছু অংশ নদীর ভাটিতে এবং সংলগ্ন খালগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। আবার ভাটার সময় মোহনা হয়ে কিছু তেল সাগরেও ছড়িয়েছে। পাশাপাশি জোয়ারে সাগর থেকেও তেল ফিরে আসার শঙ্কা জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিবেশবিদরা।

পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, নদীতে জ্বালানি তেল ছড়িয়ে পরলে তা কর্ণফুলী নদী দূষণ সহ সংযুক্ত খাল বিল ও আশপাশের পরিবেশের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পরবে।

শনিবার দুপুরে ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের ভিত্তিতে নদীতে তেল ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সংযুক্ত দাশগুপ্তা।

সংযুক্ত দাশ গুপ্তা বলেন, জাহাজ দুটির মালিক পক্ষকে আগামীকাল শুনানির জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া জাহাজ দুটি আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর সচিব ওমর ফারুক। তিনি বলের কোস্টগার্ড তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিবে।

বার্তাবাজার/ডব্লিওএস

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর