সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ ও ৪নং ওয়ার্ড’র কাউন্সিলর ইকবাল রানাসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা করে বিপাকে পড়েছে বাদী ও তাঁর পরিবার।
প্রতিনিয়ত মামলার বিবাদীদের হুমকি ও ভয়ভীতির মধ্যে জীবনযাপন করছেন বাদী ও পরিবারের সদস্যরা।
শনিবার (২৬ অক্টোবর) সরেজমিনে গেলে দেখা যায় বাদীর বসত ঘরে তালা ঝুলছে। নাম প্রকাশ না শর্তে স্থানীরা বলেন, বাদী পরিবার বর্তমানে ভয়ে অন্যত্র বসবাস করছে।
জানা যায়, জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজগঞ্জ আদালতে গত ১ সেপ্টেম্বর ১৯ খ্রিস্টাব্দে ২ লক্ষ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে বেলকুচি পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মো. ইকবাল রানা (৩৫), মো. আশরাফ আলী (৫০), মোছাঃ শারমিন খাতুন (১৪), মোছাঃ রোজিনা বেগম (৪৫), ও মোছাঃ হাছিনা খাতুনসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করে বেলকুচি পৌরসভার জিধুরী পুরানপাড়া এলাকার বাদশা সরকারের স্ত্রী মোছাঃ শরীফুন বেগম। মামলা নং-৫৫/১৯।
বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে বেলকুচি থানাকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আদেশ প্রদান করেন।
বাদী ও মামলার আরজি সূত্রে জানা যায়, বাদী মোছাঃ শরীফুন বেগম জিধুরী গ্রামে বসবাস করার পর হতেই তার স্বামী মো. বাদশা সরকারের নিকট থেকে ইকবাল রানা ও আশরাফ আলী সহ অন্যান্য আসামী ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দিলে ঐ মহল্লায় শান্তিমত থাকতে দেয়া হবেনা বলে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখায়। এক পর্যায়ে বাদী ও তার স্বামী চাঁদা প্রদানে অস্বীকার করলে আসামীগন তাদের বসত বাড়ী থেকে উচ্ছেদ করে বাড়ীতে তালা ঝুলিয়ে দিবে বলে হুমকি দেয়। এবং বাদী ও বাদীর স্বামীসহ তার পুত্রকে এলোপাথাড়ি ভাবে মাইরপিট করে বসত ঘরে প্রবেশ করে ঘরের আসবাবপত্র ও ঘরের বেড়া এবং জানালা দরজা ভাঙ্গচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে। এবং নগদ ৬০ হাজার টাকা অপহরণ করে। পরে স্থানীয়রা সমবেত হওয়ার আগেই হত্যা করার হুমকি দিয়ে চলে যায়।
এ দিকে প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর ইকবাল রানার সাথে মুঠোফোনে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেলকুচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদী পক্ষ নারাজী দরখাস্ত দিয়েছে।
বার্তাবাজার/ডব্লিওএস