ঠাকুরগাঁওয়ের হিমাগারগুলোতে আলু সংরক্ষণ করে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। লাভের আশায় আলু সংরক্ষণ করলেও হিমাগার কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন দিন নষ্ট হচ্ছে সংরক্ষিত আলু। ফলে বাজার মূল্যের চেয়ে এসব আলু কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। কিন্তু বাজারের চাহিদা বাড়লে সংরক্ষিত আলু বের করতে গিয়ে পড়তে হয় বিপাকে।
হিমাগার কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে সংরক্ষিত আলুতে বীজ গজিয়ে যাওয়া ও পচে নষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। কৃষকের সংরক্ষিত ৮৪ কেজির বস্তার আলু নষ্ট হয়ে পাচ্ছেন ৫০ থেকে ৬০ কেজি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা হিমাগার কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণের দাবি জানালেও তাতে কর্ণপাত না করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটসহ অজুহাত দেখায় তারা।
আলু-চাষি ও ব্যবসায়ী বলেন, আলুগুলো আমরা সুন্দরভাবে রাখতে পারিনি, সে কারণে আমরা লস খাচ্ছি। বীজের জন্য যেগুলো রেখেছিলাম সেগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন বীজ পাচ্ছি না।
হিমাগার কর্তৃপক্ষ বলছে, একদিকে বিদ্যুৎ সমস্যা অন্যদিকে আলু মানসম্মত নয় অথবা ময়দার বস্তায় আলু ভরে হিমাগারে রাখায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে কৃষক।
ঠাকুরগাঁও হাওলাদার হিমাগার লি. এর নির্বাহী পরিচালক গোলাম সারোয়ার রবিন বলেন, আপনার আলু আপনার কারণে যদি ক্ষতি হয় সে দায় ভার তো আমরা নেবো না।
আলু সংরক্ষণের বিষয়ে যথাযথ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তাহলে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বে না বলে জানায় কৃষি বিভাগ।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আফতাব হোসেন বলেন, বীজ আলু সংরক্ষণের জন্য আলাদা চেম্বার তৈরি করেন। তাহলেই এ আলুর সংরক্ষণটা ভালো হবে।
জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য ১৭টি হিমাগার রয়েছে। গেল মৌসুমে ২৪ হাজার ৮শ হেক্টর জমিতে ৫ লাখ ২৮ হাজার মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়।
বার্তাবাজার/কে.জে.পি